ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অভিমুখী লেনে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নিমসার এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রীকে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১২টায় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট আমতলী এলাকায় মহাসড়কের সংস্কার কাজের কারণে এই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নামতি হাইওয়ে থানার ইনচার্জ আব্দুল মুমিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দিতেও দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
মাত্র ১৩৬৫ মিটার সংস্কারকাজে ১৭ কোটি টাকার টেন্ডার হলেও কাজের ধীরগতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আমতলী এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, গত চার মাস ধরে মহাসড়কে কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ঠিকাদার মনগড়া কাজ করছেন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো তদারকি নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের আমতলী অংশের বড় একটি অংশে খানাখন্দ সৃষ্টির ফলে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল। একটি দৈনিক পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের পর রাস্তার জরাজীর্ণ অবস্থা বিবেচনায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘হক এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কারকাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এই কাজ এখন মহাসড়কে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, রমজানের রোজা রেখে এই গরমে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে থাকায় অত্যন্ত কষ্ট হচ্ছে। কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়া কামাল হোসেন জানান, ‘নিমসার থেকে ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের রাস্তা, অথচ এটুকু জায়গা আসতে সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টার বেশি। প্রচণ্ড গরম ও রমজান মাসে এমন ভোগান্তি আমাদের দ্বিগুণ কষ্ট দিয়েছে। জুমার নামাজ কোথায় পড়ব নিশ্চিত নই। এই মুহূর্তে মহাসড়কে সংস্কারকাজ কেন করা হচ্ছে?’
ঢাকা থেকে কুমিল্লায় যাওয়া এশিয়া পরিবহনের বাসচালক সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট সময় মেনে গাড়ি চালাই। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সঠিক সময়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করি। পুরো এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গাড়ি চালাচ্ছি। কখন যে পৌঁছাতে পারব জানি না।’
রিপোর্টারের নাম 























