রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় সংঘটিত আব্দুল কাইয়ুম হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত শুনানির পর এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) খালেদ হাসান এই মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, খায়রুল হক একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাকে জামিনে মুক্তি দিলে তিনি মামলার তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। এছাড়া তার মুক্তিকে কেন্দ্র করে ছাত্র, জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে বলা হয়। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিকে, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় জালিয়াতি, শপথ ভঙ্গ এবং বিদ্বেষমূলক ও বেআইনি রায় দেওয়ার অভিযোগে আরও একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া শাহবাগ থানায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলায় তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদল, যুবদল, কৃষকদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় গ্রেপ্তার হওয়া খায়রুল হকের প্ররোচনায় আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মিছিলকারীদের ওপর হামলা চালায়। পরে কাজলা পুলিশ বক্সের সামনে শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হলে আব্দুল কাইয়ুম বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে সালমান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পরে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























