ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাইমুমের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ, জড়িয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের দায়িত্বে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা বিচার অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক আসামিকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এই অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনার পর আইসিটি’র বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার কীভাবে ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ পেলেন, তা নিয়ে শহীদ পরিবার, বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, আইনজীবী না হয়েও এমন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলা পরিচালনার জন্য একজন অপেশাদার ব্যক্তিকে কেন নিয়োগ দেওয়া হলো।

এদিকে সাইমুম রেজার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্যও বেরিয়ে এসেছে। তিনি জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের আইনবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মামলা পরিচালনার জন্য দেশের কোনো আদালতেই সাইমুম রেজার তালিকাভুক্তির প্রমাণ মেলেনি।

আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা বিচার প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়েছেন। তাদের অনেকেই মনে করেন, এমন একজন ব্যক্তির নিয়োগ অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতারই প্রমাণ। শহীদ পরিবারের সদস্যরা সাইমুম রেজার কেবল অব্যাহতি নয়, তাকে তদন্তের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

আইসিটির একজন কর্মকর্তা জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে বন্দি চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ চান প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা। একটি জাতীয় দৈনিকে এ খবর প্রকাশের পর আইসিটি’র বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশব্যাপী তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরপরই সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য সামনে আসতে শুরু করে।

সাইমুম রেজার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং তার অতীত সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি স্রোতের অনুকূলে গা ভাসাতে অভ্যস্ত। একসময় বাম ঘরানার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, সুযোগ বুঝে তিনি জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের আইনবিষয়ক সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসি গোলবঞ্চিত, ন্যাশভিলের মাঠে ইন্টার মিয়ামির গোলশূন্য ড্র

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাইমুমের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ, জড়িয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের দায়িত্বে

আপডেট সময় : ১০:৩৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা বিচার অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক আসামিকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এই অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনার পর আইসিটি’র বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার কীভাবে ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ পেলেন, তা নিয়ে শহীদ পরিবার, বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, আইনজীবী না হয়েও এমন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলা পরিচালনার জন্য একজন অপেশাদার ব্যক্তিকে কেন নিয়োগ দেওয়া হলো।

এদিকে সাইমুম রেজার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্যও বেরিয়ে এসেছে। তিনি জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের আইনবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মামলা পরিচালনার জন্য দেশের কোনো আদালতেই সাইমুম রেজার তালিকাভুক্তির প্রমাণ মেলেনি।

আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা বিচার প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়েছেন। তাদের অনেকেই মনে করেন, এমন একজন ব্যক্তির নিয়োগ অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতারই প্রমাণ। শহীদ পরিবারের সদস্যরা সাইমুম রেজার কেবল অব্যাহতি নয়, তাকে তদন্তের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

আইসিটির একজন কর্মকর্তা জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে বন্দি চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ চান প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা। একটি জাতীয় দৈনিকে এ খবর প্রকাশের পর আইসিটি’র বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশব্যাপী তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরপরই সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য সামনে আসতে শুরু করে।

সাইমুম রেজার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং তার অতীত সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি স্রোতের অনুকূলে গা ভাসাতে অভ্যস্ত। একসময় বাম ঘরানার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, সুযোগ বুঝে তিনি জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের আইনবিষয়ক সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন।