ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি ও ইসরাইলি আগ্রাসন: এক গভীর বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের আগ্রাসনকে প্রায়শই ধর্মের চশমায় ব্যাখ্যা করা হয়। ১৯৪৮ সাল থেকে বৃহত্তর ইসরাইল গঠনের লক্ষ্যে ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন কাহিনির আশ্রয় নিয়ে ফিলিস্তিনের আরবদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এই ‘সেটলার-কলোনিয়াল’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নব্য সাম্রাজ্যবাদীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আমেরিকার প্রধান দুই রাজনৈতিক দল, ডিপ স্টেট এবং ওয়াশিংটন এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যে ইসরাইল-সমর্থকদের একটি শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। ইসরাইলে নিযুক্ত বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাব এমনই একজন কট্টরপন্থী ধর্মান্ধ, যিনি ইরানে হামলার কিছুদিন আগেই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ইসরাইলের দখলে নেওয়ার পক্ষে প্রকাশ্যে জনমত তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।

বর্তমান ওয়াশিংটন প্রশাসনে হুকাবের মতো কট্টর জায়নবাদীরাই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার জামাতা জারেড কুশনারও এদেরই অংশ। ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বর্তমান যুদ্ধকে ২০০০ বছর আগের পারস্য সাম্রাজ্যের সঙ্গে ইহুদিদের সংঘাতের সঙ্গে মিলিয়ে একুশ শতকের আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ যুদ্ধের ন্যায্যতা প্রমাণের উদ্ভট চেষ্টা চালাচ্ছেন।

নেতানিয়াহু ও তার মার্কিন অনুসারীদের কাছে ইসরাইলের সকল মুসলমান-বিরোধী অভিযানই আসলে ধর্মযুদ্ধ। তিনি মুসলমানদের ‘আমালেক’ নামে অভিহিত করে তাদের বধযোগ্য মনে করেন। অন্যদিকে, মুসলিম বিশ্ব কেবল নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থে বিভক্ত হওয়ায় ইসরাইলের হাতে তাদের একে একে ধ্বংস হওয়া যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজকের এই করুণ পরিণতির পেছনে ঐতিহাসিক কারণ এবং বিগত একশ বছরের অবক্ষয়ের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো।

বিশ্ব মানব ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনকারী বিখ্যাত ভাষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৪৪ খ্রিষ্টপূর্বে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় জেনারেল মার্ক অ্যান্টনির বক্তৃতা, হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণ, ১৫২১ সালে জার্মান ধর্মপ্রচারক মার্টিন লুথারের আত্মপক্ষ সমর্থনে দেওয়া জবানবন্দি ‘হেয়ার আই স্ট্যান্ড’ (Here I Stand), এবং ১৮৬৩ সালে প্রদত্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো মানব সমাজ ও সভ্যতার গতিপথ নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের হোঁচট: স্লটের শততম ম্যাচে হার, পিছিয়ে অলরেডরা

মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি ও ইসরাইলি আগ্রাসন: এক গভীর বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের আগ্রাসনকে প্রায়শই ধর্মের চশমায় ব্যাখ্যা করা হয়। ১৯৪৮ সাল থেকে বৃহত্তর ইসরাইল গঠনের লক্ষ্যে ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন কাহিনির আশ্রয় নিয়ে ফিলিস্তিনের আরবদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এই ‘সেটলার-কলোনিয়াল’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নব্য সাম্রাজ্যবাদীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আমেরিকার প্রধান দুই রাজনৈতিক দল, ডিপ স্টেট এবং ওয়াশিংটন এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যে ইসরাইল-সমর্থকদের একটি শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। ইসরাইলে নিযুক্ত বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাব এমনই একজন কট্টরপন্থী ধর্মান্ধ, যিনি ইরানে হামলার কিছুদিন আগেই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ইসরাইলের দখলে নেওয়ার পক্ষে প্রকাশ্যে জনমত তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।

বর্তমান ওয়াশিংটন প্রশাসনে হুকাবের মতো কট্টর জায়নবাদীরাই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার জামাতা জারেড কুশনারও এদেরই অংশ। ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বর্তমান যুদ্ধকে ২০০০ বছর আগের পারস্য সাম্রাজ্যের সঙ্গে ইহুদিদের সংঘাতের সঙ্গে মিলিয়ে একুশ শতকের আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ যুদ্ধের ন্যায্যতা প্রমাণের উদ্ভট চেষ্টা চালাচ্ছেন।

নেতানিয়াহু ও তার মার্কিন অনুসারীদের কাছে ইসরাইলের সকল মুসলমান-বিরোধী অভিযানই আসলে ধর্মযুদ্ধ। তিনি মুসলমানদের ‘আমালেক’ নামে অভিহিত করে তাদের বধযোগ্য মনে করেন। অন্যদিকে, মুসলিম বিশ্ব কেবল নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থে বিভক্ত হওয়ায় ইসরাইলের হাতে তাদের একে একে ধ্বংস হওয়া যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজকের এই করুণ পরিণতির পেছনে ঐতিহাসিক কারণ এবং বিগত একশ বছরের অবক্ষয়ের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো।

বিশ্ব মানব ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনকারী বিখ্যাত ভাষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৪৪ খ্রিষ্টপূর্বে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় জেনারেল মার্ক অ্যান্টনির বক্তৃতা, হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণ, ১৫২১ সালে জার্মান ধর্মপ্রচারক মার্টিন লুথারের আত্মপক্ষ সমর্থনে দেওয়া জবানবন্দি ‘হেয়ার আই স্ট্যান্ড’ (Here I Stand), এবং ১৮৬৩ সালে প্রদত্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো মানব সমাজ ও সভ্যতার গতিপথ নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।