ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নিরাপদ ঈদযাত্রা: ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধসহ ৯ দফা সুপারিশ

আসন্ন ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৯ দফা সুপারিশ করেছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ইয়ুথ ফোরাম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, প্রতি বছর ঈদের ছুটির সময় দেশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকদের অসচেতনতা এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইয়ুথ ফোরাম কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা পেশ করেছে।

সুপারিশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন এবং ঈদে মোটরযানের জন্য নির্ধারিত গতিসীমা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা। এছাড়া, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং এ বিষয়ে প্রয়োগমূলক নির্দেশিকা জারি করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি চালকদের জন্য নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা এবং ঈদযাত্রায় তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। নছিমন, করিমন, টেম্পুসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন ও ভটভটির মতো অদক্ষ যানগুলোর চলাচল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি, মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে গাড়ি চালানো রোধে কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা, ফুটওভারব্রিজগুলোকে ব্যবহারবান্ধব করা এবং জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর আলোকে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল ফিতরের আট দিনের ছুটিতে সারাদেশে ১১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩২ জন নিহত এবং ২০৮ জন আহত হয়েছিলেন। এর আগের বছর ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময় ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে বলে বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে। সংগঠনটির মতে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও তার যথাযথ প্রয়োগ এবং শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমামদের নেতৃত্বে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ গড়ার আহ্বান মসজিদ মিশনের

নিরাপদ ঈদযাত্রা: ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধসহ ৯ দফা সুপারিশ

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

আসন্ন ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৯ দফা সুপারিশ করেছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ইয়ুথ ফোরাম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, প্রতি বছর ঈদের ছুটির সময় দেশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকদের অসচেতনতা এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইয়ুথ ফোরাম কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা পেশ করেছে।

সুপারিশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন এবং ঈদে মোটরযানের জন্য নির্ধারিত গতিসীমা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা। এছাড়া, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং এ বিষয়ে প্রয়োগমূলক নির্দেশিকা জারি করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি চালকদের জন্য নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা এবং ঈদযাত্রায় তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। নছিমন, করিমন, টেম্পুসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন ও ভটভটির মতো অদক্ষ যানগুলোর চলাচল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি, মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে গাড়ি চালানো রোধে কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা, ফুটওভারব্রিজগুলোকে ব্যবহারবান্ধব করা এবং জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর আলোকে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল ফিতরের আট দিনের ছুটিতে সারাদেশে ১১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩২ জন নিহত এবং ২০৮ জন আহত হয়েছিলেন। এর আগের বছর ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময় ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে বলে বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে। সংগঠনটির মতে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও তার যথাযথ প্রয়োগ এবং শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।