ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

পেকুয়ার থানায় মা-মেয়ে নির্যাতনের ঘটনায় ওসিকে আদালতে তলব

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় কলেজ শিক্ষার্থী মেয়ে ও তার মাকে নির্যাতনের পর সাজা দেওয়ার ঘটনায় পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তলব করেছে আদালত। আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে তাকে আদালতে হাজির হয়ে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার কক্সবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম এক আদেশে এই নির্দেশনা জারি করেন।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ার সময় পেকুয়া থানার ভেতরে পুলিশের হাতে দুই নারী মারধরের শিকার হন। পরবর্তীতে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে এক মাস করে সাজা দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভুক্তভোগী এবং তাদের পক্ষের অভিযোগ, পুলিশ থানার ভেতরে দুজন নারীকে নির্যাতন করে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। এছাড়াও, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনার প্রকৃত চিত্র না দেখে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় থাকা ওই নারীদের সাজা দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৭ মার্চ কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওই দুই নারীর সাজা বাতিল করে তাদের মামলার দায় থেকে বেকসুর খালাস দেন।

এদিকে, আদালতের আদেশে বলা হয়েছে যে, ঘটনার প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনগত ব্যবস্থা, থানায় রুজুকৃত জিডি বা মামলা, অভিযুক্তদের আটক করার কারণ এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য উপস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ১৬ মার্চের মধ্যে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। ব্যাখ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিডি বা মামলা, গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নথি, ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করারও নির্দেশ দেন আদালত।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন যে, সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য এবং এই ঘটনা সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ব্যাখ্যা সম্বলিত ভিডিও বার্তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, অভিযুক্ত নারীগণ থানায় এসে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান, গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে পুলিশের উপর হামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে তাদের আটক করা হয় এবং পরে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

পেকুয়ার থানায় মা-মেয়ে নির্যাতনের ঘটনায় ওসিকে আদালতে তলব

আপডেট সময় : ০২:৫৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় কলেজ শিক্ষার্থী মেয়ে ও তার মাকে নির্যাতনের পর সাজা দেওয়ার ঘটনায় পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তলব করেছে আদালত। আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে তাকে আদালতে হাজির হয়ে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার কক্সবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম এক আদেশে এই নির্দেশনা জারি করেন।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ার সময় পেকুয়া থানার ভেতরে পুলিশের হাতে দুই নারী মারধরের শিকার হন। পরবর্তীতে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে এক মাস করে সাজা দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভুক্তভোগী এবং তাদের পক্ষের অভিযোগ, পুলিশ থানার ভেতরে দুজন নারীকে নির্যাতন করে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। এছাড়াও, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনার প্রকৃত চিত্র না দেখে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় থাকা ওই নারীদের সাজা দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৭ মার্চ কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওই দুই নারীর সাজা বাতিল করে তাদের মামলার দায় থেকে বেকসুর খালাস দেন।

এদিকে, আদালতের আদেশে বলা হয়েছে যে, ঘটনার প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনগত ব্যবস্থা, থানায় রুজুকৃত জিডি বা মামলা, অভিযুক্তদের আটক করার কারণ এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য উপস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ১৬ মার্চের মধ্যে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। ব্যাখ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিডি বা মামলা, গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নথি, ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করারও নির্দেশ দেন আদালত।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন যে, সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য এবং এই ঘটনা সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ব্যাখ্যা সম্বলিত ভিডিও বার্তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, অভিযুক্ত নারীগণ থানায় এসে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান, গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে পুলিশের উপর হামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে তাদের আটক করা হয় এবং পরে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।