ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

কেশবপুরে অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিপন্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় একটি অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যে ফসলের ক্ষেত, গবাদিপশু, পাখি, গাছপালা, জনস্বাস্থ্য এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্যের কারণে এলাকার পানি ও মাটির রঙ লালবর্ণ ধারণ করেছে এবং পরিবেশ দূষণের দুর্গন্ধে নারী-পুরুষ ও শিশুরা চর্ম ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি বেশি মুনাফার লোভে গত তিন বছর আগে কেশবপুর সদর ইউনিয়নের খতিয়াখালী গ্রামে কেশবপুর-ভরতভায়না সড়ক-সংলগ্ন এলাকায় লোহার ফ্ল্যাটবার, স্কয়ারবার, প্লেন শিট ও অ্যাঙ্গেলসহ বিভিন্ন লোহার সামগ্রী অ্যাসিড ও কেমিক্যাল দিয়ে রঙ করার একটি কারখানা স্থাপন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি বা পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই এই কারখানা চালাচ্ছেন।

কারখানার চারপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও একাধিক বসতবাড়ি থাকা সত্ত্বেও তিনি বর্জ্য শোধনাগার না রেখে অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য খোলামেলা পরিবেশে ফেলে দিচ্ছেন। প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার লিটার রাসায়নিকযুক্ত পানি প্রতিবেশীদের উঠানে এবং কৃষকের ফসলের ক্ষেতে প্রবেশ করছে, যার ফলে আমগাছ, নারকেলগাছ, সুপারি ও কলা ক্ষেতের পাতা পুড়ে মরে যাচ্ছে। বর্ষাকালে এই দূষণের মাত্রা বেড়ে প্রায় ২০ একর জমি রাসায়নিক পানিতে সয়লাব হয়ে যায়, এবং ওইসব ফসলের ক্ষেতে নামলে কৃষকের পায়ের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে। কারখানার শব্দ দূষণে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় রুহুল আমিন তার কারখানায় প্রকাশ্যে কালো ফ্ল্যাটবার ও অ্যাঙ্গেল ৮৫ টাকা কেজিতে কিনে এনে চোরাইপথে আনা ভারতীয় রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে সেগুলোকে বিভিন্ন রডে জিয়াই (সাদা) রঙ করে কেজিতে ৩০-৩৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তার কেশবপুরে একটি চারতলা আলিশান বাড়িসহ কেশবপুর ও মনিরামপুরে মোট তিনটি কারখানা রয়েছে। দুই গ্রামের ৬০ পরিবার এই অবৈধ কারখানা বন্ধ করে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ২৭৮; আহত ১৬ হাজারেরও বেশি

কেশবপুরে অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিপন্ন

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় একটি অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যে ফসলের ক্ষেত, গবাদিপশু, পাখি, গাছপালা, জনস্বাস্থ্য এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্যের কারণে এলাকার পানি ও মাটির রঙ লালবর্ণ ধারণ করেছে এবং পরিবেশ দূষণের দুর্গন্ধে নারী-পুরুষ ও শিশুরা চর্ম ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি বেশি মুনাফার লোভে গত তিন বছর আগে কেশবপুর সদর ইউনিয়নের খতিয়াখালী গ্রামে কেশবপুর-ভরতভায়না সড়ক-সংলগ্ন এলাকায় লোহার ফ্ল্যাটবার, স্কয়ারবার, প্লেন শিট ও অ্যাঙ্গেলসহ বিভিন্ন লোহার সামগ্রী অ্যাসিড ও কেমিক্যাল দিয়ে রঙ করার একটি কারখানা স্থাপন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি বা পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই এই কারখানা চালাচ্ছেন।

কারখানার চারপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও একাধিক বসতবাড়ি থাকা সত্ত্বেও তিনি বর্জ্য শোধনাগার না রেখে অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য খোলামেলা পরিবেশে ফেলে দিচ্ছেন। প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার লিটার রাসায়নিকযুক্ত পানি প্রতিবেশীদের উঠানে এবং কৃষকের ফসলের ক্ষেতে প্রবেশ করছে, যার ফলে আমগাছ, নারকেলগাছ, সুপারি ও কলা ক্ষেতের পাতা পুড়ে মরে যাচ্ছে। বর্ষাকালে এই দূষণের মাত্রা বেড়ে প্রায় ২০ একর জমি রাসায়নিক পানিতে সয়লাব হয়ে যায়, এবং ওইসব ফসলের ক্ষেতে নামলে কৃষকের পায়ের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে। কারখানার শব্দ দূষণে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় রুহুল আমিন তার কারখানায় প্রকাশ্যে কালো ফ্ল্যাটবার ও অ্যাঙ্গেল ৮৫ টাকা কেজিতে কিনে এনে চোরাইপথে আনা ভারতীয় রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে সেগুলোকে বিভিন্ন রডে জিয়াই (সাদা) রঙ করে কেজিতে ৩০-৩৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তার কেশবপুরে একটি চারতলা আলিশান বাড়িসহ কেশবপুর ও মনিরামপুরে মোট তিনটি কারখানা রয়েছে। দুই গ্রামের ৬০ পরিবার এই অবৈধ কারখানা বন্ধ করে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেছেন।