ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যমুনার করাল গ্রাসে সিরাজগঞ্জে তীব্র ভাঙন: শত শত পরিবার দিশাহারা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে নদীপাড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এতে শত শত পরিবার দিশাহারা হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

জেলার শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুসরি, বারপাখিয়া এবং কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টার এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া, চৌহালী উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কাজীপুর উপজেলার পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বহু বসতভিটা ও ঘরবাড়ি ভাঙনের মুখে রয়েছে। কুরসি গ্রামের ইয়াসিন মোল্লা জানান, নদীভাঙনে তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন; প্রায় ৬০ বিঘা ফসলি জমি যমুনা গ্রাস করেছে, যার ফলে তিনি এখন নিঃস্ব।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ১৩ জুলাই থেকে টানা আটদিন ধরে যমুনা নদীর পানি বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় তিন সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টেও তিন সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩২টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন নুরুল আমীন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, শুষ্ক মৌসুমে যমুনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। চলতি মাসেই অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ২৭৮; আহত ১৬ হাজারেরও বেশি

যমুনার করাল গ্রাসে সিরাজগঞ্জে তীব্র ভাঙন: শত শত পরিবার দিশাহারা

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে নদীপাড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এতে শত শত পরিবার দিশাহারা হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

জেলার শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুসরি, বারপাখিয়া এবং কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টার এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া, চৌহালী উপজেলাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কাজীপুর উপজেলার পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বহু বসতভিটা ও ঘরবাড়ি ভাঙনের মুখে রয়েছে। কুরসি গ্রামের ইয়াসিন মোল্লা জানান, নদীভাঙনে তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন; প্রায় ৬০ বিঘা ফসলি জমি যমুনা গ্রাস করেছে, যার ফলে তিনি এখন নিঃস্ব।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ১৩ জুলাই থেকে টানা আটদিন ধরে যমুনা নদীর পানি বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় তিন সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টেও তিন সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩২টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন নুরুল আমীন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, শুষ্ক মৌসুমে যমুনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। চলতি মাসেই অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।