ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

কেশবপুরে রাসায়নিক কারখানার বর্জ্যে হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৫:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

যশোরের কেশবপুরে একটি অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারখানার অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্যে এলাকার ফসলের ক্ষেত, গবাদিপশু, পাখি, গাছপালা এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দূষিত পানি ও মাটির রঙ লাল বর্ণে পরিবর্তিত হয়েছে এবং বাতাসে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত দুর্গন্ধে নারী-পুরুষ ও শিশুরা চর্ম ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী দুই গ্রামের ৬০ পরিবার অবৈধ কারখানাটি বন্ধ করে এর মালিক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের রুহুল আমিন তিন বছর আগে কেশবপুর-ভরতভায়না সড়ক সংলগ্ন খতিয়াখালী গ্রামে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একটি রঙ করার কারখানা স্থাপন করেন। তিনি বিভিন্ন প্রকার লোহার সামগ্রী, অ্যাসিড এবং ভারতীয় রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে এই কারখানায় গোপনে রঙ তৈরি করছেন। কারখানার বর্জ্য শোধনাগার না থাকায় অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য সরাসরি পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বসতবাড়ি এবং কৃষকের ফসলের ক্ষেতে ফেলা হচ্ছে। এতে আম, নারকেল, সুপারি গাছ এবং কলার ক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বর্ষাকালে দূষিত পানি প্রায় ২০ একর জমি প্লাবিত করে, যা কৃষকদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করছে। কারখানার শব্দ দূষণও পরিবেশকে ভারী করে তুলছে। রুহুল আমিন অতিরিক্ত মুনাফার লোভে চোরাই পথে আনা ভারতীয় রাসায়নিক ব্যবহার করে কালো ফ্লাটবার ও অ্যাঙ্গেল সাদা রঙ করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এই অবৈধ উপায়ে তিনি রাতারাতি বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন এবং বর্তমানে কেশবপুর ও মনিরামপুরে তিনটি কারখানা পরিচালনা করছেন। তিনি কেশবপুর পৌর শহরে একটি চারতলা আলিশান বাড়িও নির্মাণ করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ২৭৮; আহত ১৬ হাজারেরও বেশি

কেশবপুরে রাসায়নিক কারখানার বর্জ্যে হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য

আপডেট সময় : ০৪:৫৫:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যশোরের কেশবপুরে একটি অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারখানার অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্যে এলাকার ফসলের ক্ষেত, গবাদিপশু, পাখি, গাছপালা এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দূষিত পানি ও মাটির রঙ লাল বর্ণে পরিবর্তিত হয়েছে এবং বাতাসে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত দুর্গন্ধে নারী-পুরুষ ও শিশুরা চর্ম ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী দুই গ্রামের ৬০ পরিবার অবৈধ কারখানাটি বন্ধ করে এর মালিক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের রুহুল আমিন তিন বছর আগে কেশবপুর-ভরতভায়না সড়ক সংলগ্ন খতিয়াখালী গ্রামে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একটি রঙ করার কারখানা স্থাপন করেন। তিনি বিভিন্ন প্রকার লোহার সামগ্রী, অ্যাসিড এবং ভারতীয় রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে এই কারখানায় গোপনে রঙ তৈরি করছেন। কারখানার বর্জ্য শোধনাগার না থাকায় অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য সরাসরি পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বসতবাড়ি এবং কৃষকের ফসলের ক্ষেতে ফেলা হচ্ছে। এতে আম, নারকেল, সুপারি গাছ এবং কলার ক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বর্ষাকালে দূষিত পানি প্রায় ২০ একর জমি প্লাবিত করে, যা কৃষকদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করছে। কারখানার শব্দ দূষণও পরিবেশকে ভারী করে তুলছে। রুহুল আমিন অতিরিক্ত মুনাফার লোভে চোরাই পথে আনা ভারতীয় রাসায়নিক ব্যবহার করে কালো ফ্লাটবার ও অ্যাঙ্গেল সাদা রঙ করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এই অবৈধ উপায়ে তিনি রাতারাতি বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন এবং বর্তমানে কেশবপুর ও মনিরামপুরে তিনটি কারখানা পরিচালনা করছেন। তিনি কেশবপুর পৌর শহরে একটি চারতলা আলিশান বাড়িও নির্মাণ করেছেন।