ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

হাটহাজারীর আনন্দবাজার সেতু: দুই বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণ, জনদুর্ভোগ চরমে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ও মেখল ইউনিয়নের সংযোগকারী আনন্দবাজার সেতু নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দুই বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে প্রকল্পের এমন দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে আনন্দবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পিলার নির্মাণ সম্পন্ন হলেও স্প্যান বসানোর কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। সম্প্রতি কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণকাজে আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায়, দুই পাড়ের মানুষের পারাপারের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে, যা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গড়দুয়ারা, মেখল এবং পার্শ্ববর্তী মার্দাশা ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। উপজেলা সদর, হাসপাতাল এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের এটিই তাদের প্রধান পথ। আবদুল্লাহ নামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, নদীতে পানি বাড়ায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে মাদরাসায় যেতে তার অনেক কষ্ট হয়।

গড়দুয়ারা এলাকার শফিক আহমদ ভুট্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেতুটি এখনো অসম্পূর্ণ। যাতায়াতের কোনো বিকল্প পথ না থাকায় ছোট এই সাঁকো দিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের।

হাটহাজারী উপজেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, ২১ মিটার লম্বা ও ২৪ মিটার চওড়া আনন্দবাজার সেতুটি নির্মাণে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৫ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর মাজেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দিদার মৌলভীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে এবং ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়, যা এখনো অসম্পূর্ণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ২৭৮; আহত ১৬ হাজারেরও বেশি

হাটহাজারীর আনন্দবাজার সেতু: দুই বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণ, জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ও মেখল ইউনিয়নের সংযোগকারী আনন্দবাজার সেতু নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দুই বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে প্রকল্পের এমন দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে আনন্দবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পিলার নির্মাণ সম্পন্ন হলেও স্প্যান বসানোর কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। সম্প্রতি কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণকাজে আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায়, দুই পাড়ের মানুষের পারাপারের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে, যা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গড়দুয়ারা, মেখল এবং পার্শ্ববর্তী মার্দাশা ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। উপজেলা সদর, হাসপাতাল এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের এটিই তাদের প্রধান পথ। আবদুল্লাহ নামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, নদীতে পানি বাড়ায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে মাদরাসায় যেতে তার অনেক কষ্ট হয়।

গড়দুয়ারা এলাকার শফিক আহমদ ভুট্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেতুটি এখনো অসম্পূর্ণ। যাতায়াতের কোনো বিকল্প পথ না থাকায় ছোট এই সাঁকো দিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের।

হাটহাজারী উপজেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, ২১ মিটার লম্বা ও ২৪ মিটার চওড়া আনন্দবাজার সেতুটি নির্মাণে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৫ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর মাজেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দিদার মৌলভীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে এবং ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়, যা এখনো অসম্পূর্ণ।