জনগণের সঙ্গে পুলিশের তৈরি হওয়া আস্থার সংকট নিরসনে প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে মো. আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আইজিপি বলেন, ‘বিগত সময়ে পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই জনআস্থা পুনরুদ্ধারে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। এজন্য জেলা সদরের থানাকে আমরা ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’ তিনি আরও জানান, এসব থানার কার্যক্রম একজন সার্কেল এএসপি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবেন, যাতে থানায় আগত মানুষ হাসিমুখে ফিরে যেতে পারে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকে। পুলিশের রিঅ্যাকশন টাইম বা সাড়াদানের সময়ও নূন্যতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশ এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চায়, যাতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকে। তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসাথে, উগ্র মৌলবাদীদের উত্থান রোধে পুলিশের ‘সজাগ দৃষ্টি’ থাকবে বলে তিনি জানান। দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে পুলিশের সবসময় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে, সরকারের অঙ্গীকারের মতো দেশের স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশেরও ‘অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার’ বলে মন্তব্য করেন বাহিনী প্রধান। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে আইজিপি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। দল-মত নির্বিশেষে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে কোনো দলীয় বিবেচনার সুযোগ থাকবে না।’ তিনি আরও জানান, চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করা হয়ে গেছে এবং অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে। ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























