ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের অঙ্গীকার: উপেক্ষা করলে সরকারের বৈধতা থাকবে না, বলছেন বিশ্লেষকরা

বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের পাটাতনের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে। এই গণভোট ও জুলাই সনদকে উপেক্ষা করা হলে বর্তমান সরকার ও সংসদের কোনো রাজনৈতিক বৈধতা থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন গোলটেবিল আলোচনার বক্তারা। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশ, গণভোটের অঙ্গীকার, জুলাই সনদ এবং সংস্কার প্রস্তাবসমূহের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (সিপিএএ)।

সিপিএএ’র প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সচিব ড. মো. শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। এছাড়াও সাবেক সচিব আবদুল কাইউম, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, জুলাইয়ের অঙ্গীকার তথা রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। জুলাই সনদ এবং সংস্কার প্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করার কোনো নৈতিক বা আইনী বৈধতা থাকতে পারে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করা আত্মঘাতী হবে বলেও তারা সতর্ক করেন। গণভোট ও জুলাই চেতনাকে উপেক্ষা করা হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে।

আলোচকরা ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, এর ফলে জাতি রাজনৈতিকভাবে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। তাই খোলামনে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে সুরক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ছাড়া ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ করা উচিত হবে না। একইসাথে, জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্যদেরকে সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ঢাকার সহযোগিতা চাইল ভারত

জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের অঙ্গীকার: উপেক্ষা করলে সরকারের বৈধতা থাকবে না, বলছেন বিশ্লেষকরা

আপডেট সময় : ০৬:৩২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের পাটাতনের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে। এই গণভোট ও জুলাই সনদকে উপেক্ষা করা হলে বর্তমান সরকার ও সংসদের কোনো রাজনৈতিক বৈধতা থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন গোলটেবিল আলোচনার বক্তারা। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশ, গণভোটের অঙ্গীকার, জুলাই সনদ এবং সংস্কার প্রস্তাবসমূহের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (সিপিএএ)।

সিপিএএ’র প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সচিব ড. মো. শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। এছাড়াও সাবেক সচিব আবদুল কাইউম, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, জুলাইয়ের অঙ্গীকার তথা রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। জুলাই সনদ এবং সংস্কার প্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করার কোনো নৈতিক বা আইনী বৈধতা থাকতে পারে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করা আত্মঘাতী হবে বলেও তারা সতর্ক করেন। গণভোট ও জুলাই চেতনাকে উপেক্ষা করা হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে।

আলোচকরা ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, এর ফলে জাতি রাজনৈতিকভাবে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। তাই খোলামনে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে সুরক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ছাড়া ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ করা উচিত হবে না। একইসাথে, জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্যদেরকে সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।