ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি। তিনি বলেছেন, ‘পুরো গ্যাং যেন সামনে আসে এবং জড়িত সবাইকে যেন বিচারের আওতায় আনা হয়। শুধু ফয়সাল যেন বলির পাঁঠা না হয়। ফয়সালের ফাঁসি দিয়ে অন্যদের আড়াল করা হলে তা কখনোই ন্যায়বিচার হবে না।’
সোমবার ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকার নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মাসুমা হাদি এই আকুতি জানান। ফয়সাল গ্রেপ্তার হলেও হাদির পরিবার পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছে না। নিহতের বোন মাসুমা হাদি স্পষ্ট করে বলেছেন, শুধু ফয়সালকে ফাঁসি দিয়ে যেন ‘পর্দার আড়ালের মূল খুনিদের’ ছেড়ে দেওয়া না হয়।
ফয়সাল গ্রেপ্তারে কিছুটা আশাবাদী হলেও অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মাসুমা। তিনি বলেন, ‘ফয়সাল একজন শুটার। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এতে আমরা কিছুটা আশাবাদী যে তার বিচার হবে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কারা জড়িত, ফয়সালকে কে নির্দেশ দিয়েছে, কে অর্থ জুগিয়েছে এবং কারা তাকে জেল থেকে জামিনে বের হতে সহায়তা করেছে— এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা প্রয়োজন।’
উল্লেখ্য, হাদি হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গত শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুরুতর আহত হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। এরপর থানা-পুলিশের হাত ঘুরে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে। তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ কয়েকজনের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 
























