চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভা বর্জন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় আন্দোলনের মূল শক্তি ছাত্র-জনতা ও আহতদের যথাযথ অংশগ্রহণ না থাকার অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন দলটির নেতারা।
জানা গেছে, সভার শুরুতেই এনসিপির সাতকানিয়া উপজেলা সমন্বয়কারী তৌহিদুল ইসলাম মাসুম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা এবং আহতদের অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই গণঅভ্যুত্থান সফল করেছেন, তাদের বাদ দিয়ে এ ধরনের আয়োজন আন্দোলনের প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে না। এই প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সভা থেকে বেরিয়ে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান এবং স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য দায়িত্বশীলরা অংশ নেন।
বর্জনের বিষয়ে এনসিপি নেতা তৌহিদুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক হচ্ছে সাধারণ ছাত্র-জনতা। অথচ তাদের ছাড়াই এই দিবস পালন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অভিমান ও ক্ষোভ থেকেই আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।’
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলনের আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জেলা শহরে পাঠানো হয়েছে। স্বল্প সময়ের নোটিশে উপজেলা পর্যায়ে এই সভার আয়োজন করতে হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছিল এবং বর্জনের মতো কোনো পরিস্থিতি সেখানে ছিল না। এই ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 


















