সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি ‘সাগরকন্যা’ খ্যাত দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় বিদ্যুতের তীব্র সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটক, হোটেল-রিসোর্ট মালিক, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে দিনের বড় একটি সময় জেনারেটরের ওপর নির্ভর করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন কুয়াকাটা জোনাল অফিস থেকে কুয়াকাটা পৌরসভাসহ মহিপুর, লতাচাপলী, ধুলাসার ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও কুয়াকাটার জন্য আলাদা কোনো বিদ্যুৎ বরাদ্দ বা বিশেষ ব্যবস্থাপনা না থাকায় সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কয়েক দিন ধরে দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে শিশু, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন খাত। কুয়াকাটার দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল, শতাধিক রেস্তোরাঁ এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হওয়ায় জ্বালানি ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েক গুণ, যা পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে ব্যবসায়ীদের লোকসানের মুখে ফেলছে।
হোটেল খান প্যালেসের পরিচালক সাকুর মিয়া বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৫ বার লোডশেডিং হয়েছে। বাধ্য হয়ে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। পর্যটকেরাও বিরক্ত হচ্ছেন, আর আমাদের লোকসানেরও আশঙ্কা বাড়ছে।’
রুচিতা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পরিচালক আবুবকর বলেন, ‘শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতেও নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। গতকাল শুধু ব্যবসা সচল রাখতে প্রায় ৩০ লিটার ডিজেল পুড়িয়ে জেনারেটর চালাতে হয়েছে। পুরো রাতে মাত্র আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল। এভাবে একটি পর্যটন এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন।’
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক আব্দুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বস্তিতে থাকা যাচ্ছে না। বিশেষ করে গরমের মধ্যে হোটেলে বিদ্যুৎ না থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
রিপোর্টারের নাম 























