মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

হাদি হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পর বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ পরিবার, চায় পূর্ণাঙ্গ চক্রের শাস্তি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখনো আদালতে সন্তোষজনক চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় নিহতের পরিবার গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বোন মাসুমা হাদি এই দাবি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে প্রকাশ্য দিবালোকে শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় শুটার ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানকার সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন যে, ঘটনার ৮৭ দিন পার হয়ে গেলেও তদন্তকারী সংস্থা এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি, যা পরিবারের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনার পর অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর কীভাবে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো তা এখনো রহস্যজনক। তবে গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয় যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয় যে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা উচিত।

হাদির পরিবার সতর্ক করে বলেছে যে, দায়সারা কোনো চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করা হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় নিহত ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র-জনতার অনুপস্থিতির অভিযোগ: সাতকানিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন এনসিপির

হাদি হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পর বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ পরিবার, চায় পূর্ণাঙ্গ চক্রের শাস্তি

আপডেট সময় : ০২:৫৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখনো আদালতে সন্তোষজনক চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় নিহতের পরিবার গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বোন মাসুমা হাদি এই দাবি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে প্রকাশ্য দিবালোকে শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় শুটার ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানকার সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন যে, ঘটনার ৮৭ দিন পার হয়ে গেলেও তদন্তকারী সংস্থা এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি, যা পরিবারের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনার পর অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর কীভাবে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো তা এখনো রহস্যজনক। তবে গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয় যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয় যে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা উচিত।

হাদির পরিবার সতর্ক করে বলেছে যে, দায়সারা কোনো চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করা হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় নিহত ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।