মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি

সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক ঘটনায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মোশাররফ হোসেন (৪০) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের আল-তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির ক্যাম্পে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত মোশাররফ হোসেন সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

নিহতের চাচাত ভাই মো. জাকির হোসেন, যিনি নিজেও সৌদি আরবে বসবাস করেন, তিনি এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মোশাররফ আল খারিজ শহরের আল-তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। রোববার সন্ধ্যায় ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে, যখন সবাই ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির ক্যাম্পটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ঘটনাস্থলেই মোশাররফ হোসেন নিহত হন।

মোশারফ হোসেন তার অভাবের সংসারকে সচ্ছল করতে প্রায় ৮ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি আল খারিজ শহরের পাশে একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর চাকরি করতেন। তার স্ত্রী, কবরী আক্তার, এবং দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে মিহান প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তিন বছর আগে তিনি তিন মাসের জন্য দেশে এসেছিলেন।

দুর্ঘটনার ঠিক আগে পরিবারের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেছিলেন মোশাররফ। স্ত্রী কবরী আক্তার জানান, মোশাররফ বলেছিলেন ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন এবং ছেলে দুটির জন্য কিছু জিনিসপত্র কিনবেন। কিন্তু কে জানত, সেই কথাই হবে তাদের শেষ কথা।

সোমবার রাত প্রায় ৩টার দিকে মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। মোশারফের বড় ছেলে মাহিম জানায়, রাতে বাবার সাথে ফোনে কথা হয়েছিল এবং বাবা ঈদের জন্য কিছু কিনেছেন কিনা তা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। সে এই যুদ্ধ দ্রুত বন্ধের এবং আর কোনো মায়ের যেন বুক খালি না হয়, এমন প্রার্থনা করেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিহত মোশারফের পরিবারের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রনী সোমবার সকালে মোশারফের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র-জনতার অনুপস্থিতির অভিযোগ: সাতকানিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন এনসিপির

সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি

আপডেট সময় : ০২:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক ঘটনায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মোশাররফ হোসেন (৪০) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের আল-তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির ক্যাম্পে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত মোশাররফ হোসেন সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

নিহতের চাচাত ভাই মো. জাকির হোসেন, যিনি নিজেও সৌদি আরবে বসবাস করেন, তিনি এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মোশাররফ আল খারিজ শহরের আল-তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। রোববার সন্ধ্যায় ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে, যখন সবাই ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির ক্যাম্পটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ঘটনাস্থলেই মোশাররফ হোসেন নিহত হন।

মোশারফ হোসেন তার অভাবের সংসারকে সচ্ছল করতে প্রায় ৮ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি আল খারিজ শহরের পাশে একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর চাকরি করতেন। তার স্ত্রী, কবরী আক্তার, এবং দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে মিহান প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তিন বছর আগে তিনি তিন মাসের জন্য দেশে এসেছিলেন।

দুর্ঘটনার ঠিক আগে পরিবারের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেছিলেন মোশাররফ। স্ত্রী কবরী আক্তার জানান, মোশাররফ বলেছিলেন ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন এবং ছেলে দুটির জন্য কিছু জিনিসপত্র কিনবেন। কিন্তু কে জানত, সেই কথাই হবে তাদের শেষ কথা।

সোমবার রাত প্রায় ৩টার দিকে মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। মোশারফের বড় ছেলে মাহিম জানায়, রাতে বাবার সাথে ফোনে কথা হয়েছিল এবং বাবা ঈদের জন্য কিছু কিনেছেন কিনা তা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। সে এই যুদ্ধ দ্রুত বন্ধের এবং আর কোনো মায়ের যেন বুক খালি না হয়, এমন প্রার্থনা করেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিহত মোশারফের পরিবারের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রনী সোমবার সকালে মোশারফের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।