কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকাল ৮টায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার আশায় আসা রোগীরা এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে মাত্র তিনজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন, যেখানে মোট ২৬ জন চিকিৎসকের কর্মস্থলে থাকার কথা। এর ফলে ২৩ জন চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
সকাল সাড়ে ৮টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডা. জাহিদ, ডা. এম জামান এবং ডা. ফরহাদ আবেদীন ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মালেকুল আফতাব ভূঁইয়া জানান, রোস্টার অনুযায়ী ২৬ জন চিকিৎসকের মধ্যে চারজন ছুটিতে রয়েছেন। তবে বাকিদের অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, তিনি নিজেও একটি জরুরি সমন্বয় সভায় যোগ দিতে কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিসে গিয়েছিলেন, তাই সকালে হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী সজল চন্দ্র দাস জানান, এখন পর্যন্ত তিনজন ডাক্তার এসেছেন এবং বাকিরা শীঘ্রই এসে পড়বেন। তবে রোগীদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। চিকিৎসা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পরও টিকিট কাউন্টার খোলেনি এবং কোনো কক্ষেই কাউকে দেখা যায়নি।
দুর্ঘটনার শিকার মারিয়া আক্তারকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় রেফার করা হয়। মারিয়ার মা আকলিমা আক্তার জানান, জরুরি বিভাগে কোনো বড় ডাক্তার না থাকায় তাদের কুমিল্লায় যেতে হয়েছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশির জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সকাল ৮টায় কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নিয়ম রয়েছে। বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন অনুপস্থিতির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























