মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান: বোরকা পরে শীর্ষ সন্ত্রাসীর পলায়নের গুঞ্জন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী এক বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। সোমবার ভোর থেকে প্রায় তিন হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে এই অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে, একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং র‌্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. ইয়াছিন অভিযানের আগেই বোরকা পরে পালিয়ে গেছেন। ভোরের আলো ফোটার আগেই তিনি একটি গোপন পথ ব্যবহার করে নারী সেজে এলাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব ভূঁইয়্যা হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের উপর যৌথ বাহিনী জোর দিচ্ছে। এই মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন, নুরুল হক ভান্ডারী, ফারুকসহ আরও কয়েকজন আসামি রয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ইয়াছিন ভোরের আলো ফোটার আগেই একটি গোপন পথ দিয়ে পালিয়ে যান। এসময় তাকে বোরকা পরিহিত অবস্থায় কয়েকজন দেখেছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের খবর পেলে বোরকা পরে বা সিএনজি চালকের ছদ্মবেশে দুর্গম এলাকা থেকে পালিয়ে যেতেন।

অভিযান পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে, অন্য একটি দল পাহাড়ি পথ ধরে উপরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে আগেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে কেউ অভিযান শুরুর খবর পেয়ে এলাকা ছাড়তে না পারে। অভিযানে অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে একাধিক পাহাড়ি ছড়া, ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত ঘর রয়েছে, যা অপরাধীরা আত্মগোপনের জন্য ব্যবহার করে। তাই সদস্যরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কোথাও কোথাও পাহাড়ি পথ এতটাই সরু যে একসঙ্গে কয়েকজনের বেশি চলাচল করা সম্ভব নয়, তাই ধাপে ধাপে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি একটি স্থানীয় যুবদল নেতা নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরবর্তীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এর আগে গত বছরের ৩০ আগস্ট সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে জঙ্গল সলিমপুর থেকে চার সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং বিপুল পরিমাণ দেশী-বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র-জনতার অনুপস্থিতির অভিযোগ: সাতকানিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন এনসিপির

চট্টগ্রামে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান: বোরকা পরে শীর্ষ সন্ত্রাসীর পলায়নের গুঞ্জন

আপডেট সময় : ১২:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী এক বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। সোমবার ভোর থেকে প্রায় তিন হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে এই অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে, একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং র‌্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. ইয়াছিন অভিযানের আগেই বোরকা পরে পালিয়ে গেছেন। ভোরের আলো ফোটার আগেই তিনি একটি গোপন পথ ব্যবহার করে নারী সেজে এলাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব ভূঁইয়্যা হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের উপর যৌথ বাহিনী জোর দিচ্ছে। এই মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন, নুরুল হক ভান্ডারী, ফারুকসহ আরও কয়েকজন আসামি রয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ইয়াছিন ভোরের আলো ফোটার আগেই একটি গোপন পথ দিয়ে পালিয়ে যান। এসময় তাকে বোরকা পরিহিত অবস্থায় কয়েকজন দেখেছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের খবর পেলে বোরকা পরে বা সিএনজি চালকের ছদ্মবেশে দুর্গম এলাকা থেকে পালিয়ে যেতেন।

অভিযান পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে, অন্য একটি দল পাহাড়ি পথ ধরে উপরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে আগেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে কেউ অভিযান শুরুর খবর পেয়ে এলাকা ছাড়তে না পারে। অভিযানে অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে একাধিক পাহাড়ি ছড়া, ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত ঘর রয়েছে, যা অপরাধীরা আত্মগোপনের জন্য ব্যবহার করে। তাই সদস্যরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কোথাও কোথাও পাহাড়ি পথ এতটাই সরু যে একসঙ্গে কয়েকজনের বেশি চলাচল করা সম্ভব নয়, তাই ধাপে ধাপে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি একটি স্থানীয় যুবদল নেতা নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরবর্তীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এর আগে গত বছরের ৩০ আগস্ট সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে জঙ্গল সলিমপুর থেকে চার সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং বিপুল পরিমাণ দেশী-বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার করেছিল।