শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় ভুট্টা চাষের রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একসময় এই কৃষিনির্ভর উপজেলায় কৃষকরা মূলত ধান চাষেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ধান চাষে লাভ কম হওয়ায় অনেক কৃষক এখন ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের মাঠ ফসলের চাষাবাদে উৎসাহিত হচ্ছেন।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, মানুষের খাদ্য তালিকায় ভুট্টার আটার পাশাপাশি পশুখাদ্য, হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও ভুট্টার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। রোগ-বালাই কম হওয়া এবং ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে অধিক লাভবান হচ্ছেন, যা এর আবাদ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার দশটি ইউনিয়নে মোট ১ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬০০ হেক্টর বেশি, অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ। কাকিলাকুড়া, ভেলুয়া, শ্রীবরদী সদর ও তাতিহাটি—এই চারটি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশাবাদী যে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হবে।
কাকিলাকুড়া, কুড়িকাহনিয়া ও ভেলুয়া ইউনিয়নের ভুট্টা চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মণ ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে। এতে বিঘা প্রতি কৃষকের খরচ প্রায় ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া ভুট্টার কাণ্ড জ্বালানি হিসেবে এবং পাতা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ধান চাষের চেয়ে বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে বিশেষভাবে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে, সার সংকট এবং সরকারি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডিএপি সার কেনার কারণে এবার লাভের পরিমাণ কম হতে পারে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।
কুড়িকাহনিয়া গ্রামের কৃষক সোলায়মান জানান, গত বছর এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করলেও এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় তিনি আরও বেশি জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছেন। তিনি ৫টি গরু পালন করেন এবং দানাদার খাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে নিজের উৎপাদিত ভুট্টা দিয়ে গো-খাদ্য তৈরি করে খরচ কমাচ্ছেন। তাতিহাটি ইউনিয়নের কৃষক শাহিন মিয়া এবার এক একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















