কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় লবণ উৎপাদনের ভরা মওসুমে লবণের দরপতনে দিশেহারা চাষিরা। মাঠে চাষিরা লবণের দাম পাচ্ছে মনপ্রতি ১৬০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ৪ টাকা। যেখানে জমি লাগিয়ত মূল্য, শ্রমিক,পলিথিন সব মিলিয়ে প্রতিমণ লবণ উৎপাদনে খরচ পরে ৩০০ টাকা। ফলে লোকসানে এখন চাষিরা।
চলতি লবণ মওসুমে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ৬ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ করছেন সাড়ে ৪ হাজার লবণ চাষি। গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে চাষিরা লবণের দাম না পাওয়ায় এবার ৫০০- একর জমি পতিত পড়ে আছে।
দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে লবণ চাষি মো. কামাল জানান, গত মওসুমে শ্রমিক খরচ পুরোটাই ঘাটতি ছিল। চার কানি জমিতে একলক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই এবার জমির লাগিয়ত মূল্য কম হলেও অনেক চাষি জমি পতিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
চলতি বছর লবণ উৎপাদনের ভরা মওসুমে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উঠছে। লবণের দাম কমে যাওয়ায় আসন্ন ঈদের কেনা কাটায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন ব্যবসায়িরা।
আলী ফকির ডেইলের মাঠের চাষি ছোটন বলেন, ব্যবসায়ীরা প্রতিমণ লবণের দাম দিচ্ছে ১৬০-৭০ টাকা। গত বছর ৩ কাণি জমিতে লবণ চাষ করে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় দেড় লক্ষ টাকা লোকসান দিয়েছে বলেও জানান ছোটন। লবণ উৎপাদনে খরচ বেশি হলেও সরকার নির্ধারিত লবণের দাম তারা পাচ্ছেন না। লবণের ন্যায্য দাম নির্ধারণ করতে হবে।
উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের লবণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, নারায়নগঞ্জ,খুলনার লবণ মিলগুলোতে যে দাম দেবে,তারা সেই দামের ওপর ভিত্তি করে মাঠ পর্যায়ে চাষিদের দাম দেয়া হয়। প্রতিমণ লবণ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দাম মাঠে চাষিরা পাচ্ছে। তবে আরো কমে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। মাঠ থেকে লবণ কিনে শ্রমিক,পরিবহণ খরচ,ঘাটসহ ৬০ টাকা নেয়া হয়। কম-বেশি সব মাঠেই একই ভাবে খরচ নেয়া হয় বলেও জানান তারা।
কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, কুতুবদিয়া-মহেশখালী মানুষের প্রধান পেশা লবণ আর মৎস্য আহরণ। মাঠে লবণের কেজি ৪ টাকা। লবণের ন্যায্য দাম নির্ধারণ না করেই লবণ আমদানির পায়তারা করা হয়েছিল গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। তারা আন্দোলন প্রতিবাদ করে স্থগিত রেখেছেন লবণ আমদানি। চাষিরা যেন লবণের ন্যায্য দাম পায় সেজন্য সংসদে তার সরকারের মাধ্যমে একটি লবনবোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেবেন।
রিপোর্টারের নাম 






















