মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

তারারগঞ্জের ২ লাখ টাকার মাঠ ভরাট প্রকল্পে অনিয়ম, তদন্তে উপজেলা প্রশাসন

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বাস্তবায়নে দায়সারাভাবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম রাসেলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এ অভিযোগ তুলেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলে ভোগান্তি হতো। এই সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রাক্কলনের ভিত্তিতে ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ২ লাখ টাকার একটি মাঠ ভরাট প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদ।

প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও মাঠের অবস্থার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় মাটি না ফেলায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে আগের মতোই পানি জমে থাকছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয় মাঠের বিভিন্ন স্থানে এখনও হাঁটুপানি জমে আছে। একই মাঠ ব্যবহারকারী তেঁতুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। মাঠে খেলাধুলা ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুল হক জানান, ‘মাঠে খুবই অল্প পরিমাণ মাটি ফেলা হয়েছে। আমার ধারণা, ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি কাজ হয়নি।’ আরেক বাসিন্দা জোবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘২ লাখ টাকার কাজ হলে মাঠের এমন অবস্থা থাকার কথা নয়। বাস্তবে যে কাজ হয়েছে, তা বরাদ্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কাগজে-কলমে আমাকে সভাপতি করা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

তবে আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম রাসেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই পুরো ২ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।’ এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনাব্বর হোসেন বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুতর, আমরা তদন্ত করছি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জার্মানির নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: পানির স্তর নেমেছে রেকর্ড তলানিতে

তারারগঞ্জের ২ লাখ টাকার মাঠ ভরাট প্রকল্পে অনিয়ম, তদন্তে উপজেলা প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বাস্তবায়নে দায়সারাভাবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম রাসেলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এ অভিযোগ তুলেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলে ভোগান্তি হতো। এই সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রাক্কলনের ভিত্তিতে ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ২ লাখ টাকার একটি মাঠ ভরাট প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদ।

প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও মাঠের অবস্থার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় মাটি না ফেলায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে আগের মতোই পানি জমে থাকছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয় মাঠের বিভিন্ন স্থানে এখনও হাঁটুপানি জমে আছে। একই মাঠ ব্যবহারকারী তেঁতুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। মাঠে খেলাধুলা ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুল হক জানান, ‘মাঠে খুবই অল্প পরিমাণ মাটি ফেলা হয়েছে। আমার ধারণা, ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি কাজ হয়নি।’ আরেক বাসিন্দা জোবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘২ লাখ টাকার কাজ হলে মাঠের এমন অবস্থা থাকার কথা নয়। বাস্তবে যে কাজ হয়েছে, তা বরাদ্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কাগজে-কলমে আমাকে সভাপতি করা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

তবে আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম রাসেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই পুরো ২ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।’ এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনাব্বর হোসেন বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুতর, আমরা তদন্ত করছি।’