ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

গিগ ইকোনমি : সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট এবং বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, অনলাইন গিগ ওয়ার্ক সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। বাংলাদেশে আনুমানিক ১০-১২ লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ নিয়মিত Upwork, Fiverr, Freelancer ও PeoplePerHour-এর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান, যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। গিগ ইকোনমির বিস্তার আজ আর শহরকেন্দ্রিক কোনো ঘটনা নয়; এটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শহর থেকে গ্রাম—প্রযুক্তির হাত ধরে হাজারো তরুণ যুক্ত হচ্ছে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সঙ্গে। এর ফলে রাষ্ট্রের ওপর বেকারত্বের চাপ তুলনামূলক কমছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে আর্থিক সচ্ছলতা তৈরি হচ্ছে এবং অনেকের জীবনমান উন্নত হচ্ছে—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু এই অর্জনের ভিত্তি কি শুধুই সস্তা পরিশ্রম, নাকি মেধার, শ্রমের মূল্যায়ন, তা আজ প্রশ্নের তুঙ্গে।

কিন্তু এই উজ্জ্বল চিত্রের আড়ালেই ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে আরেকটি ঢাকা পড়া বাস্তবতা। গিগ ইকোনমির অনিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পনাহীন বিস্তারের ফলে বহু ক্ষেত্রে দক্ষতার মান কমে যাচ্ছে, কাজের গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

একদিকে অনেকে মনে করছেন—দক্ষতা বাড়ানোই টিকে থাকার একমাত্র পথ। অন্যদিকে একটি বড় অংশের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এমন ধারণা যে, যেহেতু তুলনামূলক কম দক্ষতাতেই দ্রুত আয় সম্ভব, সেহেতু দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ এখন আর জরুরি নয়। এই দ্বিধাদ্বন্দ্বই বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

কারণ, এই দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, আর সেই অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই গিগ ইকোনমির নেতিবাচক দিকগুলো ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

একসময় শ্রম বলতে বোঝানো হতো নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে নির্দিষ্ট সময় কাজ করা অথবা নিজ উদ্যোগে শারীরিক ও মানসিক শ্রমের বিনিময়ে নির্দিষ্ট আয়ের ব্যবস্থা করা। কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তি, ইন্টারনেট ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ এই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে। আজ শ্রম হয়ে উঠেছে বহুমুখী ও নমনীয়। একই ব্যক্তি একাধিক ধরনের কাজে যুক্ত থাকতে পারছেন—এটাই এখন স্বাভাবিক বাস্তবতা।

ফ্রিল্যান্সিং, রাইড শেয়ারিং, অনলাইন ডেলিভারি, কনসালট্যান্সি কিংবা কনটেন্ট ক্রিয়েশন—এই খণ্ডকালীন বা প্রকল্পভিত্তিক কাজগুলোই গিগ ইকোনমির মূল ভিত্তি। উবারচালক থেকে শুরু করে আপওয়ার্কে কাজ করা একজন গ্রাফিক ডিজাইনার—সবাই এই গিগ ইকোনমির বৃত্তের অন্তর্ভুক্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে গিগ ইকোনমির প্রতি তরুণ প্রজন্মের যে প্রবল আকর্ষণ তৈরি হয়েছে, তার পেছনে একাধিক বাস্তব কারণ রয়েছে। প্রথমত, কাজের স্বাধীনতা। নির্দিষ্ট অফিস সময় বা কঠোর কাঠামোর বাইরে নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ তরুণদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। দ্বিতীয়ত, ভৌগোলিক সীমাহীনতা। ঘরে বসেই সিলিকন ভ্যালির কোনো স্টার্টআপ, ইউরোপের কোনো ই-কমার্স কোম্পানি বা অস্ট্রেলিয়ার কোনো ডিজিটাল এজেন্সির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ—এই অভিজ্ঞতা শুধু আয় নয়, আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়। তৃতীয়ত, একাধিক আয়ের উৎস। একটি নির্দিষ্ট বেতনের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্ল্যাটফর্ম ও ক্লায়েন্ট থেকে আয় করার সুযোগ বর্তমান অনিশ্চিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেকের জন্য নিরাপত্তার বিকল্প পথ হয়ে উঠেছে। এ কারণেই গিগ ইকোনমি আজ তরুণদের কাছে শুধু চাকরির বিকল্প নয়, বরং স্বাধীন জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও এবং ডেটা প্রসেসিং খাতে বাংলাদেশ দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। Fiverr-এর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই প্ল্যাটফর্মে শীর্ষ পাঁচটি বিক্রেতা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়মিত জায়গা করে নিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রতিবছর গিগ ইকোনমি থেকে আনুমানিক ১-১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে প্রবেশ করছে। প্রথাগত প্রবাসী আয়ের বাইরে এই অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গিগ ইকোনমির ফলে বাংলাদেশের এক ধরনের অচিন্তনীয় অগ্রগামিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। যখন ‘Made in Bangladesh’ ট্যাগটি শুধু পোশাকশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আমূল পরিবর্তিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ, ইউরোপের ই-কমার্স কোম্পানি কিংবা অস্ট্রেলিয়ার ডিজিটাল এজেন্সিতে বাংলাদেশি তরুণদের কাজ এক ধরনের নরম কূটনীতি তৈরি করছে—যেখানে রাষ্ট্র নয়, নাগরিকরাই দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। ভারত যেভাবে আইটি সার্ভিসের মাধ্যমে নিজেকে ‘Back Office of the World’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে, বাংলাদেশও গিগ ইকোনমির হাত ধরে ধীরে ধীরে একই পথে এগোচ্ছে।

আইটি আউটসোর্সিং থেকে আসা বৈদেশিক মুদ্রা আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করছে। শ্রীলঙ্কার মতো দেশের অর্থনৈতিক সংকট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বৈদেশিক মুদ্রার বিকল্প উৎস না থাকাই তাদের বড় দুর্বলতা ছিল—বাংলাদেশ সেই ঝুঁকি আংশিকভাবে কমাতে পেরেছে।

কিন্তু বিপত্তি তখনই দেখা যায় যখন আমরা সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করি। বেশির ভাগ বাংলাদেশি গিগ ওয়ার্কার এখনো কম পারিশ্রমিক বা একই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। অক্সফোর্ডের গবেষণা বলছে, উন্নত বিশ্বে এসব কাজ দ্রুত এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমের মূল্য কমে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ডেটা এন্ট্রি, বেসিক গ্রাফিক ডিজাইন বা টেমপ্লেটভিত্তিক কনটেন্ট রাইটিংয়ের মতো কাজগুলো বর্তমানে দ্রুত এই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। গুগল ডকুমেন্ট এইআই, ক্যানভা এআই বা চ্যাটজিপিটির মতো টুল ব্যবহারে উন্নত দেশের ক্লায়েন্টরা নিজেরাই এসব কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন। ফলে এই খাতগুলোয় বাংলাদেশি গিগ ওয়ার্কারদের শ্রমের মূল্য কমে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রতিযোগিতা ক্রমেই মূল্যভিত্তিক হয়ে উঠছে, দক্ষতাভিত্তিক নয়।

এর সঙ্গেই যুক্ত হয় ভাষাগত দুর্বলতা, সময়ানুবর্তিতার অভাব এবং পেশাদার চুক্তি জ্ঞানের ঘাটতি, যা অনেকের মধ্যে বহুলাংশে বিদ্যমান। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছে বাংলাদেশের সার্ভিস ব্র্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙা ইংরেজিতে যোগাযোগ, কাজের ক্ষেত্র স্পষ্টভাবে নির্ধারণ না করা এবং ডেডলাইন মিস করার প্রবণতা ক্লায়েন্টদের আস্থাকে দুর্বল করে। আপওয়ার্কের ক্লায়েন্ট সার্ভে অনুযায়ী, কার্যকর যোগাযোগ ও সময়মতো ডেলিভারি স্কিলের মতোই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের মানদণ্ড। এসব ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ায় অনেক ক্লায়েন্ট ফিলিপাইন বা পূর্ব ইউরোপের বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের গিগ সার্ভিস রপ্তানির জন্য ক্ষতিকর।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেখানে গিগ ওয়ার্কারদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা, ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ও স্বাস্থ্যবীমা নীতিমালা তৈরির পথে হাঁটছে, সেখানে বাংলাদেশে গিগ ওয়ার্কাররা এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বাইরেই রয়ে গেছে। নেই কোনো পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা কিংবা শ্রমিক অধিকার। এই প্রেক্ষাপটেই International Trade Union Confederation (ITUC) গ্লোবাল সাউথের গিগ অর্থনীতিকে আখ্যা দিয়েছে ‘Digital Sweatshop’ হিসেবে—যেখানে শ্রম আছে, কিন্তু সুরক্ষা নেই; আয় আছে, কিন্তু নিরাপত্তা নেই।

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়; এটি এখনই বাস্তবতা। ChatGPT, Midjourney, AutoML, DALL·E এবং অন্যান্য AI টুল ইতোমধ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েশন, গ্রাফিক ডিজাইন, ডেটা অ্যানালাইসিস ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। উদাহরণস্বরূপ, ডেটা এন্ট্রি বা বিশ্লেষণ এখন Google AutoML বা Power BI AI-এর মাধ্যমে মিনিটের মধ্যে সম্ভব, যেখানে আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষের কাজ লাগত। গ্রাফিক ডিজাইন ও কনটেন্ট রাইটিং ক্ষেত্রেও AI দ্রুতই কাজ প্রতিস্থাপন করছে। বাংলাদেশের গিগ ওয়ার্কিং জনসংখ্যার বড় অংশ এখনো লো-স্কিল কাজের ওপর নির্ভরশীল, ফলে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে। McKinsey-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমান গিগ কাজের প্রায় ৪০ শতাংশ অটোমেশন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে। তাই বাংলাদেশি তরুণদের উচ্চমূল্যের স্কিল যেমন মেশিন লার্নিং, ব্লকচেইন, ডেটা সায়েন্স ও ক্রিয়েটিভ AI শেখা জরুরি, নইলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান সংকুচিত হবে।

বাংলাদেশে গিগ ওয়ার্কারদের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সমস্যা হলো স্থিতিশীল বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের অভাব। এ কারণে ভিডিও মিটিং, বড় ফাইল ট্রান্সফার বা সময়মতো ডেলিভারি বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিদেশি ক্লায়েন্টদের আস্থা হারায়। ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন এসব বাধা দূর করে উচ্চগতির ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও PayPal-এর মতো পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। ফলে তাদের গিগ ও BPO খাত দ্রুত এগিয়ে গেছে, যেখানে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে।

গিগ ইকোনমি ও গভীরতর দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হলে শুধু ডেটা এন্ট্রি বা রিপিটিটিভ কাজের ওপর নির্ভর না থেকে হাই-ভ্যালু স্কিল যেমন : মেশিন লার্নিং, ব্লকচেইন, ক্রিয়েটিভ AI, ডেটা সায়েন্স শেখা জরুরি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট কোর্সের মাধ্যমে তরুণদের গিগ ওয়ার্কের জন্য প্রস্তুত করা, একই ব্যক্তি একাধিক স্কিল আয়ত্ত করলে, এক ধরনের কাজ হারালে অন্য ধরনের কাজের সুযোগ থাকে।

কাঠামোগত ও নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা কম নয়। পেনশন, স্বাস্থ্যবীমা ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা তৈরি করা, PayPal বা অনুরূপ পেমেন্ট গেটওয়ে সহজলভ্য করা, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা, গিগ ওয়ার্কারদের চুক্তি, ডেডলাইন ও দায়িত্ব বোঝানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া।

বিদেশি ক্লায়েন্টের ওপর একমাত্র নির্ভরতা নয়, দেশীয় কোম্পানির প্রকল্পেও গিগ ওয়ার্কারদের যুক্ত করা, শুধু সংখ্যায় নয়, সেবার মানে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা।

শিক্ষা সংস্কার ছাড়া এই খাতের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই AI, সাইবার সিকিউরিটি, ব্লকচেইন, ডেটা সায়েন্স ও ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিভিত্তিক কোর্স বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে তরুণরা লো-স্কিল গিগ ওয়ার্কের ফাঁদে না পড়ে হাই-ভ্যালু গ্লোবাল মার্কেটে প্রবেশ করতে পারে।

গিগ ইকোনমিকে শুধু বিদেশমুখী না রেখে দেশীয় গিগ মার্কেট গড়ে তোলা জরুরি। সরকারি ডিজিটাল প্রকল্প, স্থানীয় স্টার্টআপ ও বেসরকারি খাতে গিগ মডেল চালু করলে দেশীয় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বৈদেশিক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গিগ ইকোনমি : সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা

আপডেট সময় : ০৯:১৭:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট এবং বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, অনলাইন গিগ ওয়ার্ক সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। বাংলাদেশে আনুমানিক ১০-১২ লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ নিয়মিত Upwork, Fiverr, Freelancer ও PeoplePerHour-এর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান, যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। গিগ ইকোনমির বিস্তার আজ আর শহরকেন্দ্রিক কোনো ঘটনা নয়; এটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শহর থেকে গ্রাম—প্রযুক্তির হাত ধরে হাজারো তরুণ যুক্ত হচ্ছে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সঙ্গে। এর ফলে রাষ্ট্রের ওপর বেকারত্বের চাপ তুলনামূলক কমছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে আর্থিক সচ্ছলতা তৈরি হচ্ছে এবং অনেকের জীবনমান উন্নত হচ্ছে—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু এই অর্জনের ভিত্তি কি শুধুই সস্তা পরিশ্রম, নাকি মেধার, শ্রমের মূল্যায়ন, তা আজ প্রশ্নের তুঙ্গে।

কিন্তু এই উজ্জ্বল চিত্রের আড়ালেই ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে আরেকটি ঢাকা পড়া বাস্তবতা। গিগ ইকোনমির অনিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পনাহীন বিস্তারের ফলে বহু ক্ষেত্রে দক্ষতার মান কমে যাচ্ছে, কাজের গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

একদিকে অনেকে মনে করছেন—দক্ষতা বাড়ানোই টিকে থাকার একমাত্র পথ। অন্যদিকে একটি বড় অংশের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এমন ধারণা যে, যেহেতু তুলনামূলক কম দক্ষতাতেই দ্রুত আয় সম্ভব, সেহেতু দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ এখন আর জরুরি নয়। এই দ্বিধাদ্বন্দ্বই বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

কারণ, এই দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, আর সেই অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই গিগ ইকোনমির নেতিবাচক দিকগুলো ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

একসময় শ্রম বলতে বোঝানো হতো নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে নির্দিষ্ট সময় কাজ করা অথবা নিজ উদ্যোগে শারীরিক ও মানসিক শ্রমের বিনিময়ে নির্দিষ্ট আয়ের ব্যবস্থা করা। কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তি, ইন্টারনেট ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ এই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে। আজ শ্রম হয়ে উঠেছে বহুমুখী ও নমনীয়। একই ব্যক্তি একাধিক ধরনের কাজে যুক্ত থাকতে পারছেন—এটাই এখন স্বাভাবিক বাস্তবতা।

ফ্রিল্যান্সিং, রাইড শেয়ারিং, অনলাইন ডেলিভারি, কনসালট্যান্সি কিংবা কনটেন্ট ক্রিয়েশন—এই খণ্ডকালীন বা প্রকল্পভিত্তিক কাজগুলোই গিগ ইকোনমির মূল ভিত্তি। উবারচালক থেকে শুরু করে আপওয়ার্কে কাজ করা একজন গ্রাফিক ডিজাইনার—সবাই এই গিগ ইকোনমির বৃত্তের অন্তর্ভুক্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে গিগ ইকোনমির প্রতি তরুণ প্রজন্মের যে প্রবল আকর্ষণ তৈরি হয়েছে, তার পেছনে একাধিক বাস্তব কারণ রয়েছে। প্রথমত, কাজের স্বাধীনতা। নির্দিষ্ট অফিস সময় বা কঠোর কাঠামোর বাইরে নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ তরুণদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। দ্বিতীয়ত, ভৌগোলিক সীমাহীনতা। ঘরে বসেই সিলিকন ভ্যালির কোনো স্টার্টআপ, ইউরোপের কোনো ই-কমার্স কোম্পানি বা অস্ট্রেলিয়ার কোনো ডিজিটাল এজেন্সির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ—এই অভিজ্ঞতা শুধু আয় নয়, আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়। তৃতীয়ত, একাধিক আয়ের উৎস। একটি নির্দিষ্ট বেতনের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্ল্যাটফর্ম ও ক্লায়েন্ট থেকে আয় করার সুযোগ বর্তমান অনিশ্চিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেকের জন্য নিরাপত্তার বিকল্প পথ হয়ে উঠেছে। এ কারণেই গিগ ইকোনমি আজ তরুণদের কাছে শুধু চাকরির বিকল্প নয়, বরং স্বাধীন জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও এবং ডেটা প্রসেসিং খাতে বাংলাদেশ দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। Fiverr-এর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই প্ল্যাটফর্মে শীর্ষ পাঁচটি বিক্রেতা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়মিত জায়গা করে নিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রতিবছর গিগ ইকোনমি থেকে আনুমানিক ১-১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে প্রবেশ করছে। প্রথাগত প্রবাসী আয়ের বাইরে এই অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গিগ ইকোনমির ফলে বাংলাদেশের এক ধরনের অচিন্তনীয় অগ্রগামিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। যখন ‘Made in Bangladesh’ ট্যাগটি শুধু পোশাকশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আমূল পরিবর্তিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ, ইউরোপের ই-কমার্স কোম্পানি কিংবা অস্ট্রেলিয়ার ডিজিটাল এজেন্সিতে বাংলাদেশি তরুণদের কাজ এক ধরনের নরম কূটনীতি তৈরি করছে—যেখানে রাষ্ট্র নয়, নাগরিকরাই দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। ভারত যেভাবে আইটি সার্ভিসের মাধ্যমে নিজেকে ‘Back Office of the World’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে, বাংলাদেশও গিগ ইকোনমির হাত ধরে ধীরে ধীরে একই পথে এগোচ্ছে।

আইটি আউটসোর্সিং থেকে আসা বৈদেশিক মুদ্রা আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করছে। শ্রীলঙ্কার মতো দেশের অর্থনৈতিক সংকট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বৈদেশিক মুদ্রার বিকল্প উৎস না থাকাই তাদের বড় দুর্বলতা ছিল—বাংলাদেশ সেই ঝুঁকি আংশিকভাবে কমাতে পেরেছে।

কিন্তু বিপত্তি তখনই দেখা যায় যখন আমরা সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করি। বেশির ভাগ বাংলাদেশি গিগ ওয়ার্কার এখনো কম পারিশ্রমিক বা একই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। অক্সফোর্ডের গবেষণা বলছে, উন্নত বিশ্বে এসব কাজ দ্রুত এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমের মূল্য কমে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ডেটা এন্ট্রি, বেসিক গ্রাফিক ডিজাইন বা টেমপ্লেটভিত্তিক কনটেন্ট রাইটিংয়ের মতো কাজগুলো বর্তমানে দ্রুত এই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। গুগল ডকুমেন্ট এইআই, ক্যানভা এআই বা চ্যাটজিপিটির মতো টুল ব্যবহারে উন্নত দেশের ক্লায়েন্টরা নিজেরাই এসব কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন। ফলে এই খাতগুলোয় বাংলাদেশি গিগ ওয়ার্কারদের শ্রমের মূল্য কমে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রতিযোগিতা ক্রমেই মূল্যভিত্তিক হয়ে উঠছে, দক্ষতাভিত্তিক নয়।

এর সঙ্গেই যুক্ত হয় ভাষাগত দুর্বলতা, সময়ানুবর্তিতার অভাব এবং পেশাদার চুক্তি জ্ঞানের ঘাটতি, যা অনেকের মধ্যে বহুলাংশে বিদ্যমান। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছে বাংলাদেশের সার্ভিস ব্র্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙা ইংরেজিতে যোগাযোগ, কাজের ক্ষেত্র স্পষ্টভাবে নির্ধারণ না করা এবং ডেডলাইন মিস করার প্রবণতা ক্লায়েন্টদের আস্থাকে দুর্বল করে। আপওয়ার্কের ক্লায়েন্ট সার্ভে অনুযায়ী, কার্যকর যোগাযোগ ও সময়মতো ডেলিভারি স্কিলের মতোই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের মানদণ্ড। এসব ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ায় অনেক ক্লায়েন্ট ফিলিপাইন বা পূর্ব ইউরোপের বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের গিগ সার্ভিস রপ্তানির জন্য ক্ষতিকর।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেখানে গিগ ওয়ার্কারদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা, ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ও স্বাস্থ্যবীমা নীতিমালা তৈরির পথে হাঁটছে, সেখানে বাংলাদেশে গিগ ওয়ার্কাররা এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বাইরেই রয়ে গেছে। নেই কোনো পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা কিংবা শ্রমিক অধিকার। এই প্রেক্ষাপটেই International Trade Union Confederation (ITUC) গ্লোবাল সাউথের গিগ অর্থনীতিকে আখ্যা দিয়েছে ‘Digital Sweatshop’ হিসেবে—যেখানে শ্রম আছে, কিন্তু সুরক্ষা নেই; আয় আছে, কিন্তু নিরাপত্তা নেই।

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়; এটি এখনই বাস্তবতা। ChatGPT, Midjourney, AutoML, DALL·E এবং অন্যান্য AI টুল ইতোমধ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েশন, গ্রাফিক ডিজাইন, ডেটা অ্যানালাইসিস ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। উদাহরণস্বরূপ, ডেটা এন্ট্রি বা বিশ্লেষণ এখন Google AutoML বা Power BI AI-এর মাধ্যমে মিনিটের মধ্যে সম্ভব, যেখানে আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষের কাজ লাগত। গ্রাফিক ডিজাইন ও কনটেন্ট রাইটিং ক্ষেত্রেও AI দ্রুতই কাজ প্রতিস্থাপন করছে। বাংলাদেশের গিগ ওয়ার্কিং জনসংখ্যার বড় অংশ এখনো লো-স্কিল কাজের ওপর নির্ভরশীল, ফলে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে। McKinsey-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমান গিগ কাজের প্রায় ৪০ শতাংশ অটোমেশন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে। তাই বাংলাদেশি তরুণদের উচ্চমূল্যের স্কিল যেমন মেশিন লার্নিং, ব্লকচেইন, ডেটা সায়েন্স ও ক্রিয়েটিভ AI শেখা জরুরি, নইলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান সংকুচিত হবে।

বাংলাদেশে গিগ ওয়ার্কারদের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সমস্যা হলো স্থিতিশীল বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের অভাব। এ কারণে ভিডিও মিটিং, বড় ফাইল ট্রান্সফার বা সময়মতো ডেলিভারি বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিদেশি ক্লায়েন্টদের আস্থা হারায়। ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন এসব বাধা দূর করে উচ্চগতির ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও PayPal-এর মতো পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। ফলে তাদের গিগ ও BPO খাত দ্রুত এগিয়ে গেছে, যেখানে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে।

গিগ ইকোনমি ও গভীরতর দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হলে শুধু ডেটা এন্ট্রি বা রিপিটিটিভ কাজের ওপর নির্ভর না থেকে হাই-ভ্যালু স্কিল যেমন : মেশিন লার্নিং, ব্লকচেইন, ক্রিয়েটিভ AI, ডেটা সায়েন্স শেখা জরুরি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট কোর্সের মাধ্যমে তরুণদের গিগ ওয়ার্কের জন্য প্রস্তুত করা, একই ব্যক্তি একাধিক স্কিল আয়ত্ত করলে, এক ধরনের কাজ হারালে অন্য ধরনের কাজের সুযোগ থাকে।

কাঠামোগত ও নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা কম নয়। পেনশন, স্বাস্থ্যবীমা ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা তৈরি করা, PayPal বা অনুরূপ পেমেন্ট গেটওয়ে সহজলভ্য করা, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা, গিগ ওয়ার্কারদের চুক্তি, ডেডলাইন ও দায়িত্ব বোঝানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া।

বিদেশি ক্লায়েন্টের ওপর একমাত্র নির্ভরতা নয়, দেশীয় কোম্পানির প্রকল্পেও গিগ ওয়ার্কারদের যুক্ত করা, শুধু সংখ্যায় নয়, সেবার মানে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা।

শিক্ষা সংস্কার ছাড়া এই খাতের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই AI, সাইবার সিকিউরিটি, ব্লকচেইন, ডেটা সায়েন্স ও ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিভিত্তিক কোর্স বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে তরুণরা লো-স্কিল গিগ ওয়ার্কের ফাঁদে না পড়ে হাই-ভ্যালু গ্লোবাল মার্কেটে প্রবেশ করতে পারে।

গিগ ইকোনমিকে শুধু বিদেশমুখী না রেখে দেশীয় গিগ মার্কেট গড়ে তোলা জরুরি। সরকারি ডিজিটাল প্রকল্প, স্থানীয় স্টার্টআপ ও বেসরকারি খাতে গিগ মডেল চালু করলে দেশীয় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বৈদেশিক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়