ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় মাদ্রাসার ছাত্র খুন, গ্রেপ্তার ১

গাজীপুরে গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় মাদ্রাসায় হাফেজি বিভাগের শিশুছাত্রকে খুন করে আগুনে পুড়েছে এক বখাটে কিশোর। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর পিবিআই’র পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিহতের নাম-মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩)। সে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার দৌলতপুর এলাকার সোহাগ মিয়ার ছেলে এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল।

গ্রেপ্তারকৃতের নাম-ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)। সে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার নিজতুলন্দর গ্রামের দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকার মো. আব্দুল বারেকের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র এসআই বিশ্বজিত বিশ্বাস জানান, গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো মাহাবুব ইসলাম রনি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ শেষে স্থানীয় মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয় সে।

স্বজনেরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায় নি। পরদিন স্থানীয় একটি জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। নিহতের মাথা থেকে কোমড় পর্যন্ত আগুনে পোড়া অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের দাদা মো. তারা মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই এর পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তারকৃতকে শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এরপ্রেক্ষিতে ক্লুলেস এ ঘটনার হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ঘটনার রাতে আসামী ছাব্বির আহম্মেদকে ওই জঙ্গলে বসে গাঁজা সেবন করার সময় দেখে ফেলে রনি। বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেয়ার কথা বলে রনি। ছাব্বির একাধিকবার অনুরোধ জানিয়ে নিষেধ করলেও রনি তাতে রাজী হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির পিছনদিক থেকে রনিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে ঘাড় মটকে গলা চেপে ধরে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় রনি। পরে নিহতের লাশ ওই জঙ্গলের ভিতর আগুনে পুড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে ছাব্বির জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় মাদ্রাসার ছাত্র খুন, গ্রেপ্তার ১

আপডেট সময় : ১১:১৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

গাজীপুরে গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় মাদ্রাসায় হাফেজি বিভাগের শিশুছাত্রকে খুন করে আগুনে পুড়েছে এক বখাটে কিশোর। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর পিবিআই’র পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিহতের নাম-মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩)। সে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার দৌলতপুর এলাকার সোহাগ মিয়ার ছেলে এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল।

গ্রেপ্তারকৃতের নাম-ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)। সে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার নিজতুলন্দর গ্রামের দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকার মো. আব্দুল বারেকের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র এসআই বিশ্বজিত বিশ্বাস জানান, গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো মাহাবুব ইসলাম রনি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ শেষে স্থানীয় মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয় সে।

স্বজনেরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায় নি। পরদিন স্থানীয় একটি জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। নিহতের মাথা থেকে কোমড় পর্যন্ত আগুনে পোড়া অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের দাদা মো. তারা মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই এর পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তারকৃতকে শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এরপ্রেক্ষিতে ক্লুলেস এ ঘটনার হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ঘটনার রাতে আসামী ছাব্বির আহম্মেদকে ওই জঙ্গলে বসে গাঁজা সেবন করার সময় দেখে ফেলে রনি। বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেয়ার কথা বলে রনি। ছাব্বির একাধিকবার অনুরোধ জানিয়ে নিষেধ করলেও রনি তাতে রাজী হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির পিছনদিক থেকে রনিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে ঘাড় মটকে গলা চেপে ধরে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় রনি। পরে নিহতের লাশ ওই জঙ্গলের ভিতর আগুনে পুড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে ছাব্বির জানিয়েছে।