ঢাকা ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও জনআকাঙ্ক্ষা: নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও করণীয়

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্যই হলো নাগরিকের কল্যাণ সাধন। আর এই লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র কার্যকর মাধ্যম হলো সুশাসন। সুশাসন কেবল প্রশাসনিক কোনো পরিভাষা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থার মূল ভিত্তি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের সমন্বয়ে গঠিত একটি শাসনকাঠামোই পারে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে। যখন একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পায় এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করে। এর ব্যত্যয় ঘটলে দুর্নীতি বাড়ে এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছায় না, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।

জনপ্রত্যাশার বর্তমান প্রেক্ষাপট
দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি বাস্তবমুখী। মানুষ এখন কেবল পরিসংখ্যানগত প্রবৃদ্ধি বা অবকাঠামোগত চটকদার উন্নয়ন চায় না; তারা চায় একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি প্রধান বিষয়। প্রথমত, অর্থনৈতিক স্বস্তি। লাগামহীন দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ এখন স্থিতিশীল বাজার এবং আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা চায়। দ্বিতীয়ত, নাগরিক নিরাপত্তা। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারবে—এমন পরিবেশ এখন সময়ের দাবি। তৃতীয়ত, দুর্নীতির মূলোৎপাটন। ব্যাংক খাত থেকে শুরু করে সরকারি সেবা—সবখানে জেঁকে বসা দুর্নীতির অবসান চায় সাধারণ মানুষ। তারা দেখতে চায় অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, আইনের হাত থেকে যেন কেউ রেহাই না পায়।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পথনকশা
এক বিশাল জনআকাঙ্ক্ষা সামনে নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব এবং নির্বাচনি ইশতেহারে সুশাসনের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকারকে অত্যন্ত কৌশলী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। এক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: আইনের শাসন ছাড়া সুশাসন কল্পনা করা অসম্ভব। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে যাওয়ার সুযোগ না পায়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: দুর্নীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে। সরকারি কেনাকাটা, নিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-টেন্ডারিং ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। এমনকি সরকারি দলের কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে তাকেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে ‘হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা আইন’ কার্যকর করে নাগরিকদের তথ্য প্রদানে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও সেবার মানোন্নয়ন: সরকারি দপ্তরগুলোতে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করতে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ এবং ই-গভর্ন্যান্সের প্রসার ঘটাতে হবে। প্রতিটি সেবার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বহুগুণ বাড়বে।

মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য ভিন্নমতের চর্চা অপরিহার্য। মানবাধিকার রক্ষা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সুশাসনের অন্যতম শর্ত। গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রহণ করার মানসিকতা সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অর্থনৈতিক সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন: রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া উন্নয়নের সুফল যেন কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির হাতে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ নজর দিতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, একটি সরকারের সাফল্য নির্ভর করে জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়িত হলো তার ওপর। বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব সুশাসন ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা কেবল সরকারের একার কাজ নয়; এতে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের সচেতন প্রয়াস যদি একবিন্দুতে মেলে, তবেই একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে নতুন সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, এটাই এখন সাধারণ মানুষের একান্ত প্রত্যাশা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও জনআকাঙ্ক্ষা: নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও করণীয়

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্যই হলো নাগরিকের কল্যাণ সাধন। আর এই লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র কার্যকর মাধ্যম হলো সুশাসন। সুশাসন কেবল প্রশাসনিক কোনো পরিভাষা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থার মূল ভিত্তি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের সমন্বয়ে গঠিত একটি শাসনকাঠামোই পারে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে। যখন একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পায় এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করে। এর ব্যত্যয় ঘটলে দুর্নীতি বাড়ে এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছায় না, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।

জনপ্রত্যাশার বর্তমান প্রেক্ষাপট
দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি বাস্তবমুখী। মানুষ এখন কেবল পরিসংখ্যানগত প্রবৃদ্ধি বা অবকাঠামোগত চটকদার উন্নয়ন চায় না; তারা চায় একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি প্রধান বিষয়। প্রথমত, অর্থনৈতিক স্বস্তি। লাগামহীন দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ এখন স্থিতিশীল বাজার এবং আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা চায়। দ্বিতীয়ত, নাগরিক নিরাপত্তা। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারবে—এমন পরিবেশ এখন সময়ের দাবি। তৃতীয়ত, দুর্নীতির মূলোৎপাটন। ব্যাংক খাত থেকে শুরু করে সরকারি সেবা—সবখানে জেঁকে বসা দুর্নীতির অবসান চায় সাধারণ মানুষ। তারা দেখতে চায় অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, আইনের হাত থেকে যেন কেউ রেহাই না পায়।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পথনকশা
এক বিশাল জনআকাঙ্ক্ষা সামনে নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব এবং নির্বাচনি ইশতেহারে সুশাসনের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকারকে অত্যন্ত কৌশলী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। এক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: আইনের শাসন ছাড়া সুশাসন কল্পনা করা অসম্ভব। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে যাওয়ার সুযোগ না পায়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: দুর্নীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে। সরকারি কেনাকাটা, নিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-টেন্ডারিং ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। এমনকি সরকারি দলের কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে তাকেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে ‘হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা আইন’ কার্যকর করে নাগরিকদের তথ্য প্রদানে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও সেবার মানোন্নয়ন: সরকারি দপ্তরগুলোতে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করতে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ এবং ই-গভর্ন্যান্সের প্রসার ঘটাতে হবে। প্রতিটি সেবার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বহুগুণ বাড়বে।

মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য ভিন্নমতের চর্চা অপরিহার্য। মানবাধিকার রক্ষা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সুশাসনের অন্যতম শর্ত। গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রহণ করার মানসিকতা সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অর্থনৈতিক সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন: রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া উন্নয়নের সুফল যেন কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির হাতে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ নজর দিতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, একটি সরকারের সাফল্য নির্ভর করে জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়িত হলো তার ওপর। বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব সুশাসন ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা কেবল সরকারের একার কাজ নয়; এতে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের সচেতন প্রয়াস যদি একবিন্দুতে মেলে, তবেই একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে নতুন সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, এটাই এখন সাধারণ মানুষের একান্ত প্রত্যাশা।