ঢাকা ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকের খেলাপি কমলেও বেড়েছে জনতার

রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ছয় ব্যাংকের মধ্যে গত বছরের শেষ তিন মাসে পাঁচটির খেলাপি ঋণ কমলেও উল্টো বেড়েছে জনতা ব্যাংকের। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। বিপরীতে একই সময়ে অগ্রণী, সোনালী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণ কমেছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর শেষে জনতা ব্যাংকের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭২ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৭৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির ঋণস্থিতি ছিল ৯৬ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা এবং খেলাপি ঋণ ছিল ৭০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে শীর্ষ ২০টি গ্রুপের কাছেই আটকে আছে ৫২ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭২ শতাংশ। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। গত বছর শেষে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জনতা ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। এর মূল সুবিধাভোগী ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব ব্যবসায়ীর অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, আবার কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। আদায় না হওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ জানতে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মজিবুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে পাঁচ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৩৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বা ৪৬ দশমিক ৬১ শতাংশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘের ভূমিকার কড়া সমালোচনা ইরানের: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নীরবতা ভাঙার আহ্বান

রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকের খেলাপি কমলেও বেড়েছে জনতার

আপডেট সময় : ১২:৩৫:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ছয় ব্যাংকের মধ্যে গত বছরের শেষ তিন মাসে পাঁচটির খেলাপি ঋণ কমলেও উল্টো বেড়েছে জনতা ব্যাংকের। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। বিপরীতে একই সময়ে অগ্রণী, সোনালী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণ কমেছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর শেষে জনতা ব্যাংকের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭২ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৭৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির ঋণস্থিতি ছিল ৯৬ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা এবং খেলাপি ঋণ ছিল ৭০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে শীর্ষ ২০টি গ্রুপের কাছেই আটকে আছে ৫২ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭২ শতাংশ। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। গত বছর শেষে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জনতা ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। এর মূল সুবিধাভোগী ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব ব্যবসায়ীর অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, আবার কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। আদায় না হওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ জানতে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মজিবুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে পাঁচ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৩৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বা ৪৬ দশমিক ৬১ শতাংশ।