ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

কেমন হলো পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশ স্কোয়াড

লম্বা সময় পর জাতীয় দলে ফিরছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। প্রায় এক বছর পর ফেরা আফিফ হোসেনকে জায়গা করে দিতে বাদ পড়েছেন জাকের আলী অনিক। এছাড়া বাদ পড়েছেন নুরুল হাসান সোহান ও শামীম পাটোয়ারী। সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দে না থাকায় তাদের ছাড়াই স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। এই পরিবর্তনে দল কতটা শক্তিশালী হলো? সেটাই এখন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সবশেষ ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে খেলেছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। এরপর লম্বা সময় ছিলেন জাতীয় দলের বাইরে। সবশেষ বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণের টুর্নামেন্টে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে ১ সেঞ্চুরিতে ১২৮ রান করে দলে ডাক পেয়েছেন আফিফ। এর আগে সবশেষ ডিপিএলেও বলার মতো ছন্দে ছিলেন না। অর্থাৎ ফর্মহীনতা কাটাতে অফফর্মের ক্রিকেটারকেই দলে ডেকেছে বিসিবি।

এছাড়া মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও দলে রেখেছে বিসিবি। এখন পর্যন্ত তিন ওয়ানডে খেলা অঙ্কন এখনো অপেক্ষায় আছেন নিজেকে প্রমাণের। তবু তার ওপর ভরসা রেখেছেন নির্বাচকরা। প্রধান নির্বাচক তাকে দলে রাখার কারণ ব্যাখ্যায় বলেছেন, সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারবেন এমন আশায় আছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিসিএলেও বলার মতো পারফর্ম করতে পারেননি অঙ্কন। বিসিএলে মধ্যাঞ্চলের হয়ে তিন ম্যাচে এক ফিফটিতে করেছেন মাত্র ১২৪ রান।

এছাড়া অভিজ্ঞতার বিচারে উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে রেখেছেন নির্বাচকরা। মাত্র এক ফিফটি করা এই ব্যাটারের ব্যাটে এসেছে মোটে ৬৫ রান। ওয়ানডেতেও ঠিকঠাক রান করতে না পারা লিটনের ওপর এখনো ভরসা রাখতে চান নির্বাচকরা। সম্প্রতি হওয়া বিসিএলে রান পাননি সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। মাত্র ১০৭ রান এসেছে তার ব্যাটে।

তবে ছন্দে আছেন বোলাররা। ইনজুরির কারণে হাসান মাহমুদ ও তানজিম সাকিব নেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে স্কোয়াডে। বদলি হিসেবে আছেন তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম। ৭ উইকেট নিয়ে পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। শরিফুলের শিকার ছিল ৬ উইকেট।

এছাড়া বিগব্যাশে দারুণ ছন্দে থাকা রিশাদ হোসেন বিসিএলেও ছিলেন দারুণ ছন্দে। ৪ ম্যাচে তার শিকার ছিল ৯ উইকেট। ওয়ানডে দলে জায়গা ধরে রাখা সৌম্য সরকার বল হাতে আছেন ছন্দে। তার শিকার ছিল ৬ উইকেট। তবে ব্যাট হাতে বিসিএলে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। করেছেন মোটে ১৮ রান।

দল থেকে বাদ পড়া নুরুল হাসান সোহান, জাকের আলী অনিক ও শামীম পাটোয়ারী বিসিএলে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। সোহানের ব্যাটে ছিল মোটে ২৪ রান। জাকের আলী অনিক এক ম্যাচে ব্যাট করে করেছেন ৫ রান। আর শামীম পাটোয়ারি খেলেননি বিসিএলে।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান সিরিজের আগে বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে ব্যাটিং। ব্যাটাররা নিজেদের ছন্দে ফেরাতে পারেন কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে পাকিস্তান সিরিজে স্বস্তি জোগাতে পারে বোলিং বিভাগ। সেই স্বস্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘের ভূমিকার কড়া সমালোচনা ইরানের: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নীরবতা ভাঙার আহ্বান

কেমন হলো পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশ স্কোয়াড

আপডেট সময় : ০২:১১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

লম্বা সময় পর জাতীয় দলে ফিরছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। প্রায় এক বছর পর ফেরা আফিফ হোসেনকে জায়গা করে দিতে বাদ পড়েছেন জাকের আলী অনিক। এছাড়া বাদ পড়েছেন নুরুল হাসান সোহান ও শামীম পাটোয়ারী। সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দে না থাকায় তাদের ছাড়াই স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। এই পরিবর্তনে দল কতটা শক্তিশালী হলো? সেটাই এখন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সবশেষ ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে খেলেছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। এরপর লম্বা সময় ছিলেন জাতীয় দলের বাইরে। সবশেষ বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণের টুর্নামেন্টে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে ১ সেঞ্চুরিতে ১২৮ রান করে দলে ডাক পেয়েছেন আফিফ। এর আগে সবশেষ ডিপিএলেও বলার মতো ছন্দে ছিলেন না। অর্থাৎ ফর্মহীনতা কাটাতে অফফর্মের ক্রিকেটারকেই দলে ডেকেছে বিসিবি।

এছাড়া মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও দলে রেখেছে বিসিবি। এখন পর্যন্ত তিন ওয়ানডে খেলা অঙ্কন এখনো অপেক্ষায় আছেন নিজেকে প্রমাণের। তবু তার ওপর ভরসা রেখেছেন নির্বাচকরা। প্রধান নির্বাচক তাকে দলে রাখার কারণ ব্যাখ্যায় বলেছেন, সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারবেন এমন আশায় আছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিসিএলেও বলার মতো পারফর্ম করতে পারেননি অঙ্কন। বিসিএলে মধ্যাঞ্চলের হয়ে তিন ম্যাচে এক ফিফটিতে করেছেন মাত্র ১২৪ রান।

এছাড়া অভিজ্ঞতার বিচারে উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে রেখেছেন নির্বাচকরা। মাত্র এক ফিফটি করা এই ব্যাটারের ব্যাটে এসেছে মোটে ৬৫ রান। ওয়ানডেতেও ঠিকঠাক রান করতে না পারা লিটনের ওপর এখনো ভরসা রাখতে চান নির্বাচকরা। সম্প্রতি হওয়া বিসিএলে রান পাননি সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। মাত্র ১০৭ রান এসেছে তার ব্যাটে।

তবে ছন্দে আছেন বোলাররা। ইনজুরির কারণে হাসান মাহমুদ ও তানজিম সাকিব নেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে স্কোয়াডে। বদলি হিসেবে আছেন তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম। ৭ উইকেট নিয়ে পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। শরিফুলের শিকার ছিল ৬ উইকেট।

এছাড়া বিগব্যাশে দারুণ ছন্দে থাকা রিশাদ হোসেন বিসিএলেও ছিলেন দারুণ ছন্দে। ৪ ম্যাচে তার শিকার ছিল ৯ উইকেট। ওয়ানডে দলে জায়গা ধরে রাখা সৌম্য সরকার বল হাতে আছেন ছন্দে। তার শিকার ছিল ৬ উইকেট। তবে ব্যাট হাতে বিসিএলে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। করেছেন মোটে ১৮ রান।

দল থেকে বাদ পড়া নুরুল হাসান সোহান, জাকের আলী অনিক ও শামীম পাটোয়ারী বিসিএলে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। সোহানের ব্যাটে ছিল মোটে ২৪ রান। জাকের আলী অনিক এক ম্যাচে ব্যাট করে করেছেন ৫ রান। আর শামীম পাটোয়ারি খেলেননি বিসিএলে।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান সিরিজের আগে বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে ব্যাটিং। ব্যাটাররা নিজেদের ছন্দে ফেরাতে পারেন কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে পাকিস্তান সিরিজে স্বস্তি জোগাতে পারে বোলিং বিভাগ। সেই স্বস্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।