ঢাকা ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালী বন্ধের পরিকল্পনা নেই ইরানের, তবে ইসরায়েলি ও মার্কিন জাহাজের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী আপাতত বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই ইরানের। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই পথে চলাচলকারী ইসরায়েলি বা মার্কিন জাহাজগুলোকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের সামরিক মুখপাত্র জানান, তারা সাধারণ জাহাজ চলাচলে কোনো কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চান না। তবে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এই রুটে পণ্যবাহী ও অন্যান্য জাহাজের যাতায়াত আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, যারা এই প্রণালী ব্যবহার করতে আগ্রহী, তাদের পথে ইরান বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তবে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকেই তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ইরান কোনো বাড়তি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে। মুখপাত্র সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কোনো ইসরায়েলি বা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তবে সেটিকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণেই এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটি।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরাসরি জলপথ বন্ধ না করলেও নির্দিষ্ট দেশের জাহাজের ওপর হামলার হুমকি বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘের ভূমিকার কড়া সমালোচনা ইরানের: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নীরবতা ভাঙার আহ্বান

হরমুজ প্রণালী বন্ধের পরিকল্পনা নেই ইরানের, তবে ইসরায়েলি ও মার্কিন জাহাজের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী আপাতত বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই ইরানের। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই পথে চলাচলকারী ইসরায়েলি বা মার্কিন জাহাজগুলোকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের সামরিক মুখপাত্র জানান, তারা সাধারণ জাহাজ চলাচলে কোনো কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চান না। তবে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এই রুটে পণ্যবাহী ও অন্যান্য জাহাজের যাতায়াত আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, যারা এই প্রণালী ব্যবহার করতে আগ্রহী, তাদের পথে ইরান বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তবে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকেই তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ইরান কোনো বাড়তি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে। মুখপাত্র সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কোনো ইসরায়েলি বা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তবে সেটিকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণেই এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটি।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরাসরি জলপথ বন্ধ না করলেও নির্দিষ্ট দেশের জাহাজের ওপর হামলার হুমকি বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।