ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার অকাল প্রয়াণে তার আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মসজিদে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আশরাফ উদ্দিন খান আজহারী মোনাজাত পরিচালনা করেন।
দোয়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান এবং ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আইআইইআর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “সহকর্মী হিসেবে আসমা সাদিয়া রুনা ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও একজন আদর্শ মানুষ। আমি নিজে তার বিভাগে কোর্স পড়ানোর সুবাদে তাকে খুব কাছ থেকে জানার সুযোগ পেয়েছি। তার মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষককে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমাদের হৃদয়ে এই ক্ষত আজীবন থেকে যাবে।”
উপাচার্য আরও জানান, ঘাতক কর্মচারীকে ওই শিক্ষিকা সবসময় সাহায্য করতেন। এমনকি তাকে ইফতারের টাকা ও মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার মতো মানবিকতাও দেখিয়েছিলেন তিনি। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপাচার্য রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাছে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফজলুর নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এখনো শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 

























