বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কড়া প্রতিক্রিয়ার ওপর একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা সামনে এসেছে। গত বছর ভারতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষিতে ঢাকা যে ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছিল, তাকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে এক নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই বিবৃতিতে শেখ হাসিনাকে ‘পলাতক, দণ্ডিত ও গণহত্যাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তার বক্তব্যকে সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা হিসেবে গণ্য করে তৎকালীন সরকার। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকীর প্রাক্কালে এ ধরনের তৎপরতা শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই বিবৃতিতে ‘বিপ্লব’ শব্দটি ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। যদিও বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সেই সময় থেকেই একে ‘গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দাপ্তরিক নথিতে ‘বিপ্লব’ শব্দটিই প্রাধান্য পেয়েছিল। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ আর কখনোই ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনে ফিরে যাবে না এবং কোনো রাষ্ট্রের বশ্যতা স্বীকার করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রতি তৎকালীন সরকারের এই ক্ষোভ এবং কঠোর শব্দচয়ন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সন্ধিক্ষণ ছিল। পলাতক নেত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচারের সুযোগ দেওয়াকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখে ঢাকা যে কঠোর বার্তা দিয়েছিল, তা ছিল স্পষ্টত এক নতুন কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন।
রিপোর্টারের নাম 






















