গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পবনতাইড় গ্রামে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে দিনমজুর আসাদুল ইসলামের জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। তার একমাত্র সম্বল, প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের দুটি আদরের গরু আগুনে পুড়ে মারা গেছে। এই ঘটনায় আসাদুল ইসলাম এখন সম্পূর্ণ অসহায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসাদুল ইসলাম দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে নিজের সংসার চালান। প্রায় এক বছর আগে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করে তিনি দুটি গরু কিনেছিলেন। পরম যত্নে লালন-পালন করে বড় করে তুলেছিলেন তাদের, উদ্দেশ্য ছিল গরু দুটি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে নিজের মেয়ের বিয়ে দেবেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন ও পরিকল্পনা সবকিছুই শেষ হয়ে গেল এক মুহূর্তের আগুনের লেলিহান শিখায়।
বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করেই আসাদুল ইসলামের গোয়ালঘরে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তেই সেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, গরু দুটিকে বের করার কোনো সুযোগই পাননি তিনি। মর্মান্তিক এই ঘটনায় দুটি গরুসহ গোয়ালঘরটি সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালান। অনেক চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, ততক্ষণে আসাদুলের সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল।
কান্নাভেজা কণ্ঠে আসাদুল ইসলাম বলেন, “মেয়ের বিয়ের কথা ভেবেই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরু দুটি কিনেছিলাম। অনেক কষ্ট করে তাদের বড় করছিলাম। ভেবেছিলাম, গরুগুলো বড় হলে বিক্রি করে মেয়ের বিয়ে দেব। কিন্তু এক মুহূর্তের আগুনেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি একেবারে নিঃস্ব।”
স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।
এ বিষয়ে ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে দিনমজুর আসাদুলের প্রায় চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত আসাদুলকে সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























