স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামারুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, সরকারি হাসপাতাল কমপ্লেক্স থেকে দালাল চক্রকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান সরকার সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। স্বাস্থ্যসচিব বলেন, “আমরা নিশ্চিত করব যেন সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে এবং কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা লাভ করতে পারেন। সরকারি হাসপাতালগুলো জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল, এবং এখানে দালালদের কোনো প্রকার দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”
তিনি জানান, ইতোমধ্যে হাসপাতাল এলাকাগুলোতে দালালদের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রায়শই দেখা যায়, রোগীরা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই কিছু অসাধু দালাল তাদের ঘিরে ধরে। তারা ভুল তথ্য দিয়ে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়, যার ফলে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সঠিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হন। এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
স্বাস্থ্যসচিব আরও বলেন, হাসপাতালের ভেতরে বা আশেপাশে যারা দালাল হিসেবে কাজ করছে, তাদের চিহ্নিত করার জন্য প্রশাসন, পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি হাসপাতালে বিশেষ নজরদারি টিম গঠন করা হয়েছে। দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, রোগীদের জন্য তথ্যকেন্দ্র চালু করা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রোগীরা যাতে কোনো দালালের শরণাপন্ন না হয়ে সরাসরি হাসপাতালের নির্ধারিত কাউন্টার থেকে সেবা নিতে পারেন, সে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। এজন্য হাসপাতাল এলাকায় সচেতনতামূলক ব্যানার, মাইকিং ও নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে।
কোনো হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিভাগীয় মামলা করে চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হতে পারে। স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে দুর্নীতি ‘জিরো টলারেন্স’-এ নামিয়ে আনা হবে। যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসকদের অনিয়ম ও গাফিলতি থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এ সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমি, বেগমগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. হাসান খায়ের চৌধুরী, আরএমও ডা. সালেহ আহমদ সোহেল, চৌমুহনী পৌর বিএনপির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন সুমনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
—
রিপোর্টারের নাম 

























