দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট দেশের অন্যতম বৃহৎ সার উৎপাদন কেন্দ্র, নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এই অত্যাধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বোরো ধানের ভরা মৌসুমে সার সরবরাহে মারাত্মক সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কারখানাটি ২০২৪ সাল থেকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে সার উৎপাদন করে আসছিল। দৈনিক দুই হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা সম্পন্ন এই কারখানাটি গত ৪ মার্চ দুপুর ৩টা থেকে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ফখরুল আলম জানান, কারখানাটি তার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন করতে সক্ষম ছিল। বন্ধের পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় এখানে দুই হাজার ৮৪৬ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছিল।
কারখানাটি উদ্বোধনের পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে শতভাগ উৎপাদনে ছিল। তবে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে কারখানার নিজস্ব গুদামে প্রায় পাঁচ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত থাকলেও, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য যেখানে দৈনিক ৭১-৭২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ৫২-৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কবে নাগাদ এই কারখানার উৎপাদন পুনরায় শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পলাশ অফিসে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া মেলেনি।
কারখানার অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এই কারখানাটি তার নির্মাণ ব্যয়ের দেনা পরিশোধের জন্য বছরে চারটি কিস্তিতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধ করে আসছে। এ পর্যন্ত প্রায় নয়টি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে এবং আরও একটি কিস্তি পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কারখানার সার বিক্রির অর্থ থেকেই এই কিস্তিগুলো পরিশোধ করা হয়। কারখানা পুরোদমে উৎপাদনে থাকলে এই কিস্তি পরিশোধে কোনো সমস্যা হয় না। তাই কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে যাতে কারখানার উৎপাদন পুনরায় চালু করা যায় এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের সারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























