মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

তেলের দামে গুজবে সিলেটে পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, কৃত্রিম সংকট নিয়ে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির একটি গুজব ও আশঙ্কা সিলেট নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে অভূতপূর্ব ভিড় সৃষ্টি করেছে। যানবাহনের দীর্ঘ সারি, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে তেলের জন্য চরম উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই আতঙ্কিত চাহিদা বৃদ্ধির ফলেই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, যা আগামী রবিবার নাগাদ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অকটেন, পেট্রোল এবং ডিজেলের জন্য পাম্পগুলোতে দেখা গেছে লম্বা লাইন। নিয়মিত চাহিদার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হওয়ায় পাম্প মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মতে, চলতি মাসে তেলের দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই এবং সরবরাহও পর্যাপ্ত। তবে, শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকার কারণে আকস্মিক অতিরিক্ত চাহিদার ফলে কিছু পাম্পে সাময়িকভাবে তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, অনেক পাম্প মালিক শুক্রবার শুধুমাত্র মোটরসাইকেল প্রতি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল (যেমন ২০০ টাকা) বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন, যা দূরপাল্লার যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাপড়ের ব্যবসায়ী জানান, জুমার নামাজের পর তেলের সংকট দেখা দিতে পারে এমন খবর পেয়ে তিনি পাম্পে এসেছিলেন। কিন্তু মাত্র ২০০ টাকার অকটেন পেয়ে হতাশ হয়েছেন। ব্যবসার প্রয়োজনে এবং ঈদের আগে সময় না পাওয়ার কারণে তিনি বেশি পরিমাণে তেল নিতে চেয়েছিলেন।

সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে চালকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। শামীম আহমদ নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় তিনি একটু বেশি তেল কিনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাকেও মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি পাম্পের ম্যানেজার রুপক দাস জানান, দাম বাড়ার কোনো খবর তাদের কাছে নেই। সরকার সম্প্রতি (১ মার্চ) দাম অপরিবর্তিত রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এবং তারা সেই দামেই তেল বিক্রি করছেন।

সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বেঙ্গল গ্যাসোলিনের মালিক ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের কাছে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, “বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী ডিপোগুলো থেকে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। আপাতত তেলের কোনো সংকট নেই, তবে সংকটের ধারণা থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংগ্রহ করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।” তিনি আরও জানান, মাসের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই এবং নিয়ম অনুযায়ী মাস শেষে মূল্য সমন্বয় করা হয়। “অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই,” তিনি যোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ, প্রায় নয় হাজার লিটার তেল ক্রেতারা নিয়ে গেছেন।

ব্যারিস্টার আদনান পেট্রোল পাম্পগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির সময় ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকে। এই সময়ে অনেকে আতঙ্কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন, যার ফলে সাময়িকভাবে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ফলে, পেট্রোল পাম্পগুলো রেশনিং করে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রবিবার থেকে আবার স্বাভাবিকভাবেই তেল পাওয়া যাবে এবং সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটের পাম্পগুলোতে এখন পর্যন্ত তেলের কোনো সংকট হয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের সিলেটের সবকটি পাম্পে পরিমাণের জ্বালানি তেল রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “অনেকেই তেলের সংকটের আশঙ্কা থেকে তেল কিনে নিচ্ছেন। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হবে।”

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হবে। বিশ্ববাজারে দাম ওঠানামা করলেও আপাতত দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শরীয়তপুরে জুলাই অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা, জুলাই যোদ্ধাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

তেলের দামে গুজবে সিলেটে পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, কৃত্রিম সংকট নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১০:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির একটি গুজব ও আশঙ্কা সিলেট নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে অভূতপূর্ব ভিড় সৃষ্টি করেছে। যানবাহনের দীর্ঘ সারি, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে তেলের জন্য চরম উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই আতঙ্কিত চাহিদা বৃদ্ধির ফলেই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, যা আগামী রবিবার নাগাদ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অকটেন, পেট্রোল এবং ডিজেলের জন্য পাম্পগুলোতে দেখা গেছে লম্বা লাইন। নিয়মিত চাহিদার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হওয়ায় পাম্প মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মতে, চলতি মাসে তেলের দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই এবং সরবরাহও পর্যাপ্ত। তবে, শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকার কারণে আকস্মিক অতিরিক্ত চাহিদার ফলে কিছু পাম্পে সাময়িকভাবে তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, অনেক পাম্প মালিক শুক্রবার শুধুমাত্র মোটরসাইকেল প্রতি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল (যেমন ২০০ টাকা) বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন, যা দূরপাল্লার যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাপড়ের ব্যবসায়ী জানান, জুমার নামাজের পর তেলের সংকট দেখা দিতে পারে এমন খবর পেয়ে তিনি পাম্পে এসেছিলেন। কিন্তু মাত্র ২০০ টাকার অকটেন পেয়ে হতাশ হয়েছেন। ব্যবসার প্রয়োজনে এবং ঈদের আগে সময় না পাওয়ার কারণে তিনি বেশি পরিমাণে তেল নিতে চেয়েছিলেন।

সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে চালকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। শামীম আহমদ নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় তিনি একটু বেশি তেল কিনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাকেও মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি পাম্পের ম্যানেজার রুপক দাস জানান, দাম বাড়ার কোনো খবর তাদের কাছে নেই। সরকার সম্প্রতি (১ মার্চ) দাম অপরিবর্তিত রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এবং তারা সেই দামেই তেল বিক্রি করছেন।

সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বেঙ্গল গ্যাসোলিনের মালিক ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের কাছে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, “বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী ডিপোগুলো থেকে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। আপাতত তেলের কোনো সংকট নেই, তবে সংকটের ধারণা থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংগ্রহ করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।” তিনি আরও জানান, মাসের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই এবং নিয়ম অনুযায়ী মাস শেষে মূল্য সমন্বয় করা হয়। “অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই,” তিনি যোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ, প্রায় নয় হাজার লিটার তেল ক্রেতারা নিয়ে গেছেন।

ব্যারিস্টার আদনান পেট্রোল পাম্পগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির সময় ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকে। এই সময়ে অনেকে আতঙ্কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন, যার ফলে সাময়িকভাবে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ফলে, পেট্রোল পাম্পগুলো রেশনিং করে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রবিবার থেকে আবার স্বাভাবিকভাবেই তেল পাওয়া যাবে এবং সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটের পাম্পগুলোতে এখন পর্যন্ত তেলের কোনো সংকট হয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের সিলেটের সবকটি পাম্পে পরিমাণের জ্বালানি তেল রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “অনেকেই তেলের সংকটের আশঙ্কা থেকে তেল কিনে নিচ্ছেন। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হবে।”

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হবে। বিশ্ববাজারে দাম ওঠানামা করলেও আপাতত দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না।