মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

সীতাকুণ্ডে নিহত শিশু ইরার পরিবারকে সান্ত্বনা দিলেন এমপি আসলাম, ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির অঙ্গীকার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পারিবারিক বিরোধের জেরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা হত্যার ঘটনায় শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরী। তিনি নিহত ইরার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে ঘাতকের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের মসজিদ্দা মাস্টার এলাকায় ইরার বাড়িতে যান এমপি আসলাম চৌধুরী। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

এমপি আসলাম চৌধুরী বলেন, “এ ধরনের নির্মম ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঘাতক বাবু শেখকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সীতাকুণ্ডে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। পরিবারকে ন্যায়বিচার পেতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

অভিযুক্ত বাবু শেখের অতীত প্রসঙ্গে এমপি আসলাম চৌধুরী বলেন, “স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে যে, সে অতীতেও বিভিন্ন মামলায় জেল খেটেছে। তার মানসিক বিকৃতি থাকতে পারে অথবা সে একজন পেশাদার অপরাধী।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে যথাযথভাবে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সীতাকুণ্ডে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত রোববার সীতাকুণ্ড উপজেলার বোটানিক্যাল গার্ডেন ইকো পার্ক সংলগ্ন এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশী বাবু শেখ (৪৮) সাত বছর বয়সী ইরাকে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার ইরার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে। পরে সে আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। নিহত ইরার পরিবার অত্যন্ত নিম্নবিত্ত; তার বাবা অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবারের একমাত্র কন্যাকে হারিয়ে তারা গভীর শোকে মুহ্যমান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শরীয়তপুরে জুলাই অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা, জুলাই যোদ্ধাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

সীতাকুণ্ডে নিহত শিশু ইরার পরিবারকে সান্ত্বনা দিলেন এমপি আসলাম, ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ১০:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পারিবারিক বিরোধের জেরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা হত্যার ঘটনায় শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরী। তিনি নিহত ইরার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে ঘাতকের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের মসজিদ্দা মাস্টার এলাকায় ইরার বাড়িতে যান এমপি আসলাম চৌধুরী। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

এমপি আসলাম চৌধুরী বলেন, “এ ধরনের নির্মম ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঘাতক বাবু শেখকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সীতাকুণ্ডে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। পরিবারকে ন্যায়বিচার পেতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

অভিযুক্ত বাবু শেখের অতীত প্রসঙ্গে এমপি আসলাম চৌধুরী বলেন, “স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে যে, সে অতীতেও বিভিন্ন মামলায় জেল খেটেছে। তার মানসিক বিকৃতি থাকতে পারে অথবা সে একজন পেশাদার অপরাধী।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে যথাযথভাবে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সীতাকুণ্ডে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত রোববার সীতাকুণ্ড উপজেলার বোটানিক্যাল গার্ডেন ইকো পার্ক সংলগ্ন এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশী বাবু শেখ (৪৮) সাত বছর বয়সী ইরাকে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার ইরার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে। পরে সে আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। নিহত ইরার পরিবার অত্যন্ত নিম্নবিত্ত; তার বাবা অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবারের একমাত্র কন্যাকে হারিয়ে তারা গভীর শোকে মুহ্যমান।