ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৩ কোটি ৭৪ লাখের বেশি ভোট পেয়ে রেকর্ড গড়েছে। তবে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উত্থান। প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়া দলটি ভোটের মাঠে ২ কোটি ৩৮ লাখের বেশি ভোট সংগ্রহ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, বিএনপি মোট ২৯০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮টি ভোট পেয়েছে, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৪৯.৯৭ শতাংশ। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ২২৭ জন প্রার্থী নিয়ে ২ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৬৩৯টি ভোট পেয়েছে, যার হার ৩১.৭৬ শতাংশ। এই দুই বড় শক্তির বাইরে ভোটের দৌড়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা; ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে পেয়েছেন ৪৩ লাখের বেশি ভোট।
নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ ভোট (৩.০৫%) পেয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০ লাখ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫ লাখের বেশি ভোট পেয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে।
বিপরীতে, বিগত তিনটি সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করা জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবার নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও দলটি সারা দেশে মাত্র ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮২টি (০.৮৯%) ভোট সংগ্রহ করতে পেরেছে। একই ধরনের বিপর্যয় দেখা গেছে এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য (৬,৮৯৯ ভোট) এবং ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের (৫,০৬৬ ভোট) ক্ষেত্রে। এছাড়া ৫টি রাজনৈতিক দল সারা দেশে ১ হাজার ভোটও সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের রাজনীতি এখন দ্বি-মেরুকেন্দ্রিক রূপ নিলেও ছোট দলগুলোর ভোটের ব্যবধান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























