ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বিপর্যয়: সংকটে বিমান সংস্থাগুলো ও প্রবাসীরা

ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে এক নজিরবিহীন বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন হাজার হাজার যাত্রী তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন, তেমনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এই পরিস্থিতিকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছে।

৬ দিনে ২১০ ফ্লাইট বাতিল: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশ— ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাবে গত ছয় দিনে সব মিলিয়ে ২১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) একদিনেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বেবিচকের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ নিশ্চিত করেছেন যে, গত কয়েক দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে এয়ার অ্যারাবিয়ার ১০টি, এমিরেটসের ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি, কাতারের ৪টি এবং ইউএস-বাংলার ২টি ফ্লাইট রয়েছে।

রমজানে বড় ধাক্কা: সাধারণত রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী দেশে ফেরেন। এই সময়টি বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসার মূল মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়, যখন প্রতিটি ফ্লাইট প্রায় শতভাগ যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে। বর্তমান সংকট এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন মুখপাত্র এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, “যে সময়ে আমাদের ভালো ব্যবসা হওয়ার কথা, সেখানে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। দ্রুত এই অবস্থার নিরসন না হলে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় দেখা দেবে।” ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তারা জানিয়েছে, রমজানে হাজার হাজার প্রবাসী দেশে আসার অপেক্ষায় থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না।

টিকিটের দাম দ্বিগুণ-তিনগুণ হওয়ার শঙ্কা: এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সহসাই এই যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত না হলে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম সতর্ক করে বলেন, “যদি এই পরিস্থিতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক না হয়, তবে তা মারাত্মক আকার ধারণ করবে।” তাঁর মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিমান সংস্থাগুলো তাদের বিশাল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন রুটের ভাড়া দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বিদেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনাকেও এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, আকাশপথের এই উত্তেজনা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। আপাতত বিমান সংস্থাগুলো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর এক ব্যক্তির আত্মহত্যার অভিযোগ

মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বিপর্যয়: সংকটে বিমান সংস্থাগুলো ও প্রবাসীরা

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে এক নজিরবিহীন বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন হাজার হাজার যাত্রী তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন, তেমনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এই পরিস্থিতিকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছে।

৬ দিনে ২১০ ফ্লাইট বাতিল: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশ— ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাবে গত ছয় দিনে সব মিলিয়ে ২১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) একদিনেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বেবিচকের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ নিশ্চিত করেছেন যে, গত কয়েক দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে এয়ার অ্যারাবিয়ার ১০টি, এমিরেটসের ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি, কাতারের ৪টি এবং ইউএস-বাংলার ২টি ফ্লাইট রয়েছে।

রমজানে বড় ধাক্কা: সাধারণত রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী দেশে ফেরেন। এই সময়টি বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসার মূল মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়, যখন প্রতিটি ফ্লাইট প্রায় শতভাগ যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে। বর্তমান সংকট এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন মুখপাত্র এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, “যে সময়ে আমাদের ভালো ব্যবসা হওয়ার কথা, সেখানে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। দ্রুত এই অবস্থার নিরসন না হলে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় দেখা দেবে।” ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তারা জানিয়েছে, রমজানে হাজার হাজার প্রবাসী দেশে আসার অপেক্ষায় থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না।

টিকিটের দাম দ্বিগুণ-তিনগুণ হওয়ার শঙ্কা: এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সহসাই এই যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত না হলে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম সতর্ক করে বলেন, “যদি এই পরিস্থিতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক না হয়, তবে তা মারাত্মক আকার ধারণ করবে।” তাঁর মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিমান সংস্থাগুলো তাদের বিশাল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন রুটের ভাড়া দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বিদেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনাকেও এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, আকাশপথের এই উত্তেজনা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। আপাতত বিমান সংস্থাগুলো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।