মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং হারমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে সম্ভাব্য বড় ধরনের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এই বিকল্প ও ব্যয়বহুল পথে হাঁটতে হচ্ছে পেট্রোবাংলাকে। এতে দুটি কার্গোর জন্য সরকারকে অতিরিক্ত ১,২০০ কোটি টাকা গুণতে হচ্ছে।
ব্যয়ের খতিয়ান ও উচ্চমূল্য: পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, স্পট মার্কেট থেকে কেনা দুটি কার্গো এলএনজির জন্য সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত মাসেই একই পরিমাণ এলএনজি যেখানে মাত্র ১,১০০ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে এবার তার দ্বিগুণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জরুরি ভিত্তিতে এই এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী:
- গানভোর গ্রুপ (যুক্তরাষ্ট্র): একটি কার্গোর প্রতি ইউনিট (MMBtu) এলএনজির দাম পড়ছে ২৮.২৮ ডলার। এর মোট খরচ প্রায় ১,২৭৯ কোটি টাকা।
- ভিটোল (সিঙ্গাপুর ভিত্তিক): আরেকটি কার্গোর প্রতি ইউনিটের দাম পড়ছে ২৩.০৮ ডলার।
কেন এই চড়া মূল্যে ক্রয়? পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের প্রধান দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’ সম্প্রতি তাঁদের স্থাপনায় হামলার পর ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ (অনিবার্য পরিস্থিতি) জারি করে উৎপাদন ও সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ফলে মার্চ মাসে আসার কথা ছিল এমন ৪টি কার্গো সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১৫ ও ১৮ মার্চ যে দুটি জাহাজ আসার কথা ছিল, সেগুলো বর্তমানে হারমুজ প্রণালীর অচলাবস্থায় আটকা পড়েছে।
দরপত্র ও সরাসরি আলোচনা: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোবাংলা গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দফা দরপত্র আহ্বান করলেও বাজারের অস্থিরতার কারণে কোনো দরদাতা তাতে অংশ নেয়নি। পরবর্তীতে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে গানভোর ও ভিটলের কাছ থেকে এলএনজি কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। গানভোরের কার্গোটি আগামী ১৫ বা ১৬ মার্চ এবং ভিটলের চালানটি ১৮ বা ১৯ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অতিরিক্ত ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে এবং সহসাই বিশ্ব পরিস্থিতি শান্ত না হলে আগামী মাসগুলোতে জ্বালানি আমদানির খরচ আরও বাড়তে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























