ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

‘ঘরে-বাইরে কোথাও নারীর নিরাপত্তা নেই, মর্যাদা নেই’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের  নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী)’র ১০ নারী নেত্রী।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তারা এই উদ্বেগের কথা জানান। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী সীমা দত্ত। 

তিনি বলেন, “ঘরে-বাইরে-কর্মক্ষেত্রে-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ে-কোথাও নারীর নিরাপত্তা নেই, মর্যাদা নেই।” এই বিষয়ে ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ইরামনি, নরসিংদীর আমেনা, ঝিনাইদহের তাবাসসুম, পাবনার ঈশ্বরদীর জামিলা ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাসহ সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ-গণধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো সমাজের সর্বস্তরের বিবেকবান মানুষের হৃদয়কে কাঁপিয়ে দিয়েছে।

এই সমাজ-রাষ্ট্র-মানুষকে ধীরে ধীরে এক অন্ধকার গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীনরা। বিচার না হওয়ায় একটি নির্যাতনের বিভৎসতা-নৃশংসতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে আরেকটিকে। বাড়ছে ধর্ষণ-নির্যাতন। 

তিনি জানান, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে এই বছরের জানুয়ারিতে ৩১টি পারিবারিক সহিংসতা, ৩৫টি ধর্ষণ, ২টি যৌন হেনস্তা এবং ৬টি বাল্য বিবাহ ও দাম্পত্যবিষয়ক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। 

১৪ দফা দাবি— 

১) ইতোপূর্বে ঘটে যাওয়া সব নারী ও শিশু নিপীড়ন, ধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; 

২) সংসদে নারী আসনের সংখ্যা ১০০-তে উন্নীত করা ও সরাসরি নির্বাচনের বিধান করা; 

৩) ‘ইউনিফরম সিভিল কোড’ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারিবারিক আদালত চালু করা। সংরক্ষণ প্রত্যাহারসহ সিডও সনদ বাস্তবায়ন করা। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমমজুরি ও সর্বক্ষেত্রে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা; 

৪) ফতোয়াবাজীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেওয়া; 

৫) নারী ও শিশু পাচারকারী এবং নারীদের পতিতাবৃত্তিতে নিয়োগকারী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করতে হবে। আর্থিক কারণে পতিতাবৃত্তিতে যুক্ত নারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; 

৬) নাটক-সিনেমা-সাহিত্য-বিজ্ঞাপন, ওয়াজ-নসিহতে নারীদের অশ্লীল উপস্থাপনা ও তাদের সম্পর্কে অসম্মানজনক উক্তি বন্ধ করতে হবে; 

৭) প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই সঙ্গীত-নাটক-নৃত্য-চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে। মনীষী জীবনচর্চাসহ সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে; 

৮) মাদক ও জুয়া বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে; 

৯) প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসে বাংলাদেশের দূতাবাসকে শ্রমিক-বান্ধব করতে হবে, শ্রমিকদের সব রকম সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; 

১০) গৃহপরিচারিকাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তাদের ন্যূনতম মজুরি ও সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করতে হবে; 

১১) সব শ্রেণির পেশাজীবী নারীদের গর্ভকালীন সময়ে ৬ মাস বেতনসহ ছুটি নিশ্চিত করতে হবে; 

১২) নারীকে গৃহস্থালী শ্রম থেকে মুক্ত করা এবং কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করতে হবে; 

১৩) শহর এলাকায় নারীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ করতে হবে; 

১৪) গণপরিবহণে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নারী প্রার্থীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— আসমা আক্তার (চট্টগ্রাম-১০), তসলিমা আক্তার বিউটি (গাজীপুর-১), দীপা মজুমদার (চট্টগ্রাম-১১), রাহেলা খাতুন (গাইবান্ধা-৫), তৌফিকা দেওয়ান লিজা (জয়পুরহাট-১), প্রগতি বর্মণ তমা (রংপুর-৪), সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (মৌলভীবাজার-২), মুনতাহার প্রীতি (নোয়াখালী-৫) ও শাহিনুর  আক্তার সুমি (ঢাকা-৫)। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্থির তেলের বাজার, দাম বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

‘ঘরে-বাইরে কোথাও নারীর নিরাপত্তা নেই, মর্যাদা নেই’

আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের  নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী)’র ১০ নারী নেত্রী।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তারা এই উদ্বেগের কথা জানান। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী সীমা দত্ত। 

তিনি বলেন, “ঘরে-বাইরে-কর্মক্ষেত্রে-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ে-কোথাও নারীর নিরাপত্তা নেই, মর্যাদা নেই।” এই বিষয়ে ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ইরামনি, নরসিংদীর আমেনা, ঝিনাইদহের তাবাসসুম, পাবনার ঈশ্বরদীর জামিলা ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাসহ সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ-গণধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো সমাজের সর্বস্তরের বিবেকবান মানুষের হৃদয়কে কাঁপিয়ে দিয়েছে।

এই সমাজ-রাষ্ট্র-মানুষকে ধীরে ধীরে এক অন্ধকার গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীনরা। বিচার না হওয়ায় একটি নির্যাতনের বিভৎসতা-নৃশংসতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে আরেকটিকে। বাড়ছে ধর্ষণ-নির্যাতন। 

তিনি জানান, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে এই বছরের জানুয়ারিতে ৩১টি পারিবারিক সহিংসতা, ৩৫টি ধর্ষণ, ২টি যৌন হেনস্তা এবং ৬টি বাল্য বিবাহ ও দাম্পত্যবিষয়ক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। 

১৪ দফা দাবি— 

১) ইতোপূর্বে ঘটে যাওয়া সব নারী ও শিশু নিপীড়ন, ধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; 

২) সংসদে নারী আসনের সংখ্যা ১০০-তে উন্নীত করা ও সরাসরি নির্বাচনের বিধান করা; 

৩) ‘ইউনিফরম সিভিল কোড’ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারিবারিক আদালত চালু করা। সংরক্ষণ প্রত্যাহারসহ সিডও সনদ বাস্তবায়ন করা। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমমজুরি ও সর্বক্ষেত্রে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা; 

৪) ফতোয়াবাজীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেওয়া; 

৫) নারী ও শিশু পাচারকারী এবং নারীদের পতিতাবৃত্তিতে নিয়োগকারী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করতে হবে। আর্থিক কারণে পতিতাবৃত্তিতে যুক্ত নারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; 

৬) নাটক-সিনেমা-সাহিত্য-বিজ্ঞাপন, ওয়াজ-নসিহতে নারীদের অশ্লীল উপস্থাপনা ও তাদের সম্পর্কে অসম্মানজনক উক্তি বন্ধ করতে হবে; 

৭) প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই সঙ্গীত-নাটক-নৃত্য-চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে। মনীষী জীবনচর্চাসহ সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে; 

৮) মাদক ও জুয়া বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে; 

৯) প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসে বাংলাদেশের দূতাবাসকে শ্রমিক-বান্ধব করতে হবে, শ্রমিকদের সব রকম সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; 

১০) গৃহপরিচারিকাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তাদের ন্যূনতম মজুরি ও সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করতে হবে; 

১১) সব শ্রেণির পেশাজীবী নারীদের গর্ভকালীন সময়ে ৬ মাস বেতনসহ ছুটি নিশ্চিত করতে হবে; 

১২) নারীকে গৃহস্থালী শ্রম থেকে মুক্ত করা এবং কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করতে হবে; 

১৩) শহর এলাকায় নারীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ করতে হবে; 

১৪) গণপরিবহণে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নারী প্রার্থীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— আসমা আক্তার (চট্টগ্রাম-১০), তসলিমা আক্তার বিউটি (গাজীপুর-১), দীপা মজুমদার (চট্টগ্রাম-১১), রাহেলা খাতুন (গাইবান্ধা-৫), তৌফিকা দেওয়ান লিজা (জয়পুরহাট-১), প্রগতি বর্মণ তমা (রংপুর-৪), সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (মৌলভীবাজার-২), মুনতাহার প্রীতি (নোয়াখালী-৫) ও শাহিনুর  আক্তার সুমি (ঢাকা-৫)।