ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা: অতীতের ধারণা ভুল প্রমাণিত, উপকূলীয় অঞ্চলে চরম ঝুঁকি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য এক নতুন ও গভীর সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর গবেষণা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির যে হিসাব এতদিন প্রচলিত ছিল, তা ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দ্রুতগতিতে ঘটছে বলে এই গবেষণায় উঠে এসেছে। নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণা বলছে, কিছু কিছু এলাকায় সমুদ্রের জলস্তর প্রায় ৩ ফুট পর্যন্ত বেশি বেড়ে গেছে, যা উপকূলীয় বিশ্বের জন্য এক অশনি সংকেত।

গবেষকদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আসলে কতটা দ্রুত বাড়ছে এবং এর ফলে বিশ্বের কোন কোন উপকূলীয় এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে, সে সম্পর্কে বিপদের প্রকৃত চিত্রটি অনেক কম করে দেখানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পরিমাপে যে গাণিতিক মডেলগুলো ব্যবহার করে আসছেন, সেগুলো বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় অনেক কম উচ্চতা প্রদর্শন করেছে। প্রচলিত এই মডেলগুলো পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ও ঘূর্ণন বিবেচনা করলেও জোয়ার-ভাটা, বাতাস, সাগরস্রোত, তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বিষয়গুলোকে এড়িয়ে গেছে।

গত ১৫ বছরে প্রকাশিত ৩৮৫টি গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এক বিস্ময়কর তথ্য পেয়েছেন। দেখা গেছে, এসব গবেষণার ৯০ শতাংশই কেবল গাণিতিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে ফলাফল দিয়েছে, যেখানে বাস্তব স্যাটেলাইট তথ্যের ব্যবহার ছিল নগণ্য। নেদারল্যান্ডসের ওয়াজেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিলিপ মিন্ডারহাউড একে একটি ‘পদ্ধতিগত অন্ধ ক্ষেত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নতুন এই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বর্তমান ধারণার চেয়ে প্রায় ১ ফুট বেশি। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কিছু এলাকায় এই পার্থক্য আরও ভয়াবহ; সেখানে উচ্চতা আগের হিসাবের চেয়ে প্রায় ৩ ফুট পর্যন্ত বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বদ্বীপ অঞ্চলের জন্য এটি গভীর উদ্বেগের কারণ।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও ৩ ফুট বৃদ্ধি পায়, তবে আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি এলাকা জলমগ্ন হবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়বে। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন এমন অনেক বিশেষজ্ঞও বর্তমান ফলাফল দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির যে প্রভাব আমরা আগে কল্পনা করেছিলাম, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ হতে চলেছে।

গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে বর্তমানে প্রচলিত সব তথ্য এখনই পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি। উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বর্তমান ও ভবিষ্যতে ঠিক কী ধরনের হুমকি রয়েছে, তা নিরূপণে আরও নিবিড় ও বাস্তবভিত্তিক গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই ইস্যুতে নিশ্চয়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র

বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা: অতীতের ধারণা ভুল প্রমাণিত, উপকূলীয় অঞ্চলে চরম ঝুঁকি

আপডেট সময় : ১১:৩৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

বিশ্বজুড়ে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য এক নতুন ও গভীর সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর গবেষণা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির যে হিসাব এতদিন প্রচলিত ছিল, তা ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দ্রুতগতিতে ঘটছে বলে এই গবেষণায় উঠে এসেছে। নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণা বলছে, কিছু কিছু এলাকায় সমুদ্রের জলস্তর প্রায় ৩ ফুট পর্যন্ত বেশি বেড়ে গেছে, যা উপকূলীয় বিশ্বের জন্য এক অশনি সংকেত।

গবেষকদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আসলে কতটা দ্রুত বাড়ছে এবং এর ফলে বিশ্বের কোন কোন উপকূলীয় এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে, সে সম্পর্কে বিপদের প্রকৃত চিত্রটি অনেক কম করে দেখানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পরিমাপে যে গাণিতিক মডেলগুলো ব্যবহার করে আসছেন, সেগুলো বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় অনেক কম উচ্চতা প্রদর্শন করেছে। প্রচলিত এই মডেলগুলো পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ও ঘূর্ণন বিবেচনা করলেও জোয়ার-ভাটা, বাতাস, সাগরস্রোত, তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বিষয়গুলোকে এড়িয়ে গেছে।

গত ১৫ বছরে প্রকাশিত ৩৮৫টি গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এক বিস্ময়কর তথ্য পেয়েছেন। দেখা গেছে, এসব গবেষণার ৯০ শতাংশই কেবল গাণিতিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে ফলাফল দিয়েছে, যেখানে বাস্তব স্যাটেলাইট তথ্যের ব্যবহার ছিল নগণ্য। নেদারল্যান্ডসের ওয়াজেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিলিপ মিন্ডারহাউড একে একটি ‘পদ্ধতিগত অন্ধ ক্ষেত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নতুন এই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বর্তমান ধারণার চেয়ে প্রায় ১ ফুট বেশি। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কিছু এলাকায় এই পার্থক্য আরও ভয়াবহ; সেখানে উচ্চতা আগের হিসাবের চেয়ে প্রায় ৩ ফুট পর্যন্ত বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বদ্বীপ অঞ্চলের জন্য এটি গভীর উদ্বেগের কারণ।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও ৩ ফুট বৃদ্ধি পায়, তবে আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি এলাকা জলমগ্ন হবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়বে। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন এমন অনেক বিশেষজ্ঞও বর্তমান ফলাফল দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির যে প্রভাব আমরা আগে কল্পনা করেছিলাম, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ হতে চলেছে।

গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে বর্তমানে প্রচলিত সব তথ্য এখনই পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি। উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বর্তমান ও ভবিষ্যতে ঠিক কী ধরনের হুমকি রয়েছে, তা নিরূপণে আরও নিবিড় ও বাস্তবভিত্তিক গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।