যশোরের নোয়াপাড়া নদীবন্দরে লাইটার জাহাজকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহারের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড দিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। গত বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের গঠিত টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযানে এই জরিমানা করা হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১০ দিনের বেশি সময় ধরে জাহাজ আটকে রেখে মালামাল খালাস না করায় ‘এস এস শিপিং’ এবং ‘নোয়াপাড়া ট্রেডিং’ নামের প্রতিষ্ঠান দুটিকে কৃষি পণ্য বিপণন আইনের ১৯ (ঠ) ধারা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের স্পেশাল অফিসার (মেরিন সেফটি) রোকসানা খাইরুন নেছা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে আগত মোট ৪১টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, এর মধ্যে ৮টি চট্টগ্রাম থেকে আসা এবং ৩টি মোংলা থেকে আসা জাহাজ ১০ দিনের বেশি সময় ধরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। এমনকি ৩টি জাহাজ ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আটকে থাকতে দেখা যায়। ৭ দিনের বেশি অপেক্ষমাণ জাহাজগুলোকে দ্রুত খালাসের জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে আরও দেখা যায়, নোয়াপাড়া নদীবন্দরের সকল ঘাটে পণ্য খালাস কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চললেও, পণ্যবাহী জাহাজের তুলনায় ঘাটের সংখ্যা কম হওয়ায় এবং খাদ্যশস্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে খালাস করায় যান্ত্রিক পদ্ধতির তুলনায় কিছুটা বেশি সময় লাগছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে, লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা বন্দরের শৃঙ্খলা নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা রুখতে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। বন্দরের স্বাভাবিক কার্যপ্রবাহ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অধিদপ্তর বদ্ধপরিকর।
রিপোর্টারের নাম 






















