ইতিকাফ আরবি শব্দ। কাঙ্ক্ষিত অর্থ অবস্থান করা, নিরবচ্ছিন্ন হওয়া। পরিভাষায় ইতিকাফ বলা হয়, আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশে দুনিয়াবি সব ব্যস্ততাকে গুটিয়ে, মসজিদে অবস্থান করা।
ইতিকাফ তিন প্রকার হলেও আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় সুন্নত ইতিকাফ নিয়ে। এই ইতিকাফ করা হয় রমজানের শেষ দশকে একুশ তারিখের রাত (অর্থাৎ ২০ তারিখ সূর্যাস্তের আগ) থেকে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত।
রাসুল (সা.) প্রতি বছর এ দিনগুলোতে ইতিকাফ করতেন, তাই একে সুন্নত ইতিকাফ বলা হয়। তবে তার উম্মতের জন্য এই ইতিকাফ সুন্নতে মুআক্কাদাহ কিফায়াহ। মানে হলো– কোনও মসজিদ মহল্লায় কয়েকজন বা কোনও একজন আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হবেন। আর কেউই আদায় না করলে সবাই দায়ী থাকবেন।
ইতিকাফ মহানবী (সা.) এর জীবনের নিয়মিত আমল ছিল। হাদিসে এসেছে, ‘মহানবী (সা.) রমজানে শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন…।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৪৬৩) রাসুল (সা.) এর অনুসরণে তার সাহাবিরাও নিয়মিত ইতিকাফ করতেন।
ইতিকাফ শুধু পুরুষের জন্যই নয়; বরং শর্তসাপেক্ষে নারীরাও ইতিকাফ করতে পারবেন। হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) আজীবন রমজানের শেষ দশকগুলো ইতিকাফ করেছেন। তার ওফাতের পর তার স্ত্রীরাও ইতিকাফ করতেন।’ (আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৪৬)।
তবে নারীদের জন্য ইতিকাফ সুন্নত নয়; বরং মোস্তাহাব। কারণ, রাসুল (সা.) এর স্ত্রীরা ইতিকাফ পালনের জন্য তার অনুমতি চেয়েছেন। এতে প্রমাণ হয়, ইতিকাফের জন্য অভিভাবকের অনুমতি নেওয়া জরুরি। (আলবানি, কিয়ামু রমজান, ২৯)
কিন্তু কোনও নারীর স্বামী যদি এমন অসুস্থ বা অক্ষম হন যে তার নিবিড় শুশ্রূষার প্রয়োজন, তাহলে তার ইতিকাফে বসা উচিত হবে না। কিংবা কারও ছোট ছোট সন্তান থাকলে যদি তাকে দেখার কেউ না থাকে, তবে তারও উচিৎ হবে না ইতিকাফে বসা। (আহকামে রমজান ও জাকাত, ৬৪)
তবে সবকিছু ঠিক থাকলে স্বামীর উচিৎ যুক্তিসংগত ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া স্ত্রীর ইতিকাফে বাধা না দেওয়া এবং তাকে ইতিকাফের সওয়াব থেকে বঞ্চিত না করা। (বাদায়েউস সানায়ে, ২/২৭৪)
আর কোনও নারী ইতিকাফ করতে চাইলে তার নিয়ম হলো, সে তার ঘরের মসজিদে (নিজ নামাজের জন্য নির্ধারিত কক্ষ বা জায়গায়) ইতিকাফ করবে। যদি আগ থেকে নামাজের জন্য জায়গা নির্ধারিত না থাকে, তাহলে একটি জায়গা নির্ধারণ করে নেবে এবং সেখানে ইতিকাফে বসবে। এ ক্ষেত্রে সে সুন্নত ইতিকাফের নিয়ত করলে সুন্নাত ইতিকাফের বিধিবিধান তার জন্যও প্রযোজ্য হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১)
নারীর ইতিকাফের বিধিবিধান
ইতিকাফকারী নারী ইতিকাফের নির্ধারিত স্থান থেকে মানবিক প্রয়োজন ছাড়া বের হতে পারবেন না, তাহলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। খাবার পৌঁছে দেওয়ার লোক না থাকলে খাবার আনার জন্য বাইরে যেতে পারবেন। পানাহারও সেই নির্ধারিত স্থানেই করতে হবে। (হেদায়া: ১/২৩০)
ইতিকাফের স্থান থেকে অন্যদের সাংসারিক কাজের নির্দেশনা দেওয়া যাবে। তবে বাইরে যাওয়া যাবে না। রান্নার লোক না থাকলে ইতেকাফের স্থানে বসে রান্না করা সম্ভব হলে করা যাবে। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১৫/৩৩৪) দরকার হলে সেখানে বাইরের কাউকে ডাকতে পারবেন, কথা বলতে পারবেন। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৮২)
ইতিকাফ অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া যাবে না। তবে তিনি চাইলে পাশে থাকতে পারবেন। (ফাতাওয়ায়ে শামি: ৩/৪৪২) শিরক বা কুফরি কাজে লিপ্ত হলে এবং অজ্ঞান বা পাগল হয়ে গেলে বা মাতাল হয়ে পড়লে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে এবং ঋতুস্রাব শুরু হলে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে কিংবা গর্ভপাত হলে ইতিকাফ বহাল থাকবে না। (আহসানুল কাতাওয়া: ৪/৫০২)
রিপোর্টারের নাম 

























