মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

ধানের চেয়ে তিনগুণ লাভ: মাদারগঞ্জে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, স্বল্প উৎপাদন খরচ এবং বাজারে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ধানের তুলনায় মিষ্টি আলু চাষে প্রায় তিনগুণ বেশি মুনাফা হওয়ায় এই অর্থকরী ফসলটির দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বছরের তুলনায় মাদারগঞ্জে মিষ্টি আলুর আবাদ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। গত বছর ১৯০ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ হেক্টরে। উচ্চফলনশীল জাত যেমন— বারি মিষ্টি আলু-৪, বারি মিষ্টি আলু-৮ এবং স্থানীয় উন্নত জাতের আলুর চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। চাষিদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ থেকে ১২ জন কৃষককে বারি-৮ জাতের বিশেষ প্রদর্শনী প্লট স্থাপনে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মাঠজুড়ে আলু তোলার উৎসব চলছে। চরপাকেরদহ, কড়ইচড়া, বালিজুড়ী, নাংলা, জোড়খালী ও সিধুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে আলুর ফলন হয়েছে চোখে পড়ার মতো। কৃষকরা এখন জমি থেকে আলু তোলা এবং বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সিধুলী ইউনিয়নের মুজাটা গ্রামের কৃষক তাহেরুল ইসলাম জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ফলন হয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মণ। তিনি বলেন, “বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ধানের চাষে খরচ বেশি এবং লাভের বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মিষ্টি আলুতে ঝুঁকি অনেক কম।” বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় বেশ লাভজনক।

আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, আলুর বাজার চাহিদা ভালো থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি জমি থেকেই পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পরিবহন খরচ ও বাজারজাতকরণের ঝামেলা থেকেও তারা রেহাই পাচ্ছেন। বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং সঠিক কৃষি ব্যবস্থাপনার কারণে এবার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছি। মিষ্টি আলু এখন কেবল একটি খাদ্যশস্য নয়, বরং এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি অর্থকরী ফসল।” কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ২০০ টন মিষ্টি আলু উৎপাদিত হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জার্মানির নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: পানির স্তর নেমেছে রেকর্ড তলানিতে

ধানের চেয়ে তিনগুণ লাভ: মাদারগঞ্জে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, স্বল্প উৎপাদন খরচ এবং বাজারে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ধানের তুলনায় মিষ্টি আলু চাষে প্রায় তিনগুণ বেশি মুনাফা হওয়ায় এই অর্থকরী ফসলটির দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বছরের তুলনায় মাদারগঞ্জে মিষ্টি আলুর আবাদ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। গত বছর ১৯০ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ হেক্টরে। উচ্চফলনশীল জাত যেমন— বারি মিষ্টি আলু-৪, বারি মিষ্টি আলু-৮ এবং স্থানীয় উন্নত জাতের আলুর চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। চাষিদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ থেকে ১২ জন কৃষককে বারি-৮ জাতের বিশেষ প্রদর্শনী প্লট স্থাপনে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মাঠজুড়ে আলু তোলার উৎসব চলছে। চরপাকেরদহ, কড়ইচড়া, বালিজুড়ী, নাংলা, জোড়খালী ও সিধুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে আলুর ফলন হয়েছে চোখে পড়ার মতো। কৃষকরা এখন জমি থেকে আলু তোলা এবং বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সিধুলী ইউনিয়নের মুজাটা গ্রামের কৃষক তাহেরুল ইসলাম জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ফলন হয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মণ। তিনি বলেন, “বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ধানের চাষে খরচ বেশি এবং লাভের বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মিষ্টি আলুতে ঝুঁকি অনেক কম।” বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় বেশ লাভজনক।

আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, আলুর বাজার চাহিদা ভালো থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি জমি থেকেই পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পরিবহন খরচ ও বাজারজাতকরণের ঝামেলা থেকেও তারা রেহাই পাচ্ছেন। বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং সঠিক কৃষি ব্যবস্থাপনার কারণে এবার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছি। মিষ্টি আলু এখন কেবল একটি খাদ্যশস্য নয়, বরং এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি অর্থকরী ফসল।” কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ২০০ টন মিষ্টি আলু উৎপাদিত হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।