মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জে থমকে আছে কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প: নির্ধারিত সময় পেরিয়েও কাজ শেষ মাত্র ৪০ শতাংশ, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর ওপর সেতু ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। প্রকল্পের কাজ অর্ধেকেরও কম সম্পন্ন করে ফেলে রাখায় স্থানীয়দের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহর থেকে করতোয়া নদী পৃথক করেছে দরবস্ত, কাটাবাড়ী ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নকে। এই তিন ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ৩৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শুরু হয় করতোয়া সেতু। দেড় বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও দুই বছর পার হওয়ার পর কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ।

একই অবস্থা উপজেলার কামদিয়া-ফাঁসিতলা জিসি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পেরও। ২১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের কাজ এক বছরে শেষ করার কথা ছিল। পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়িয়ে দেড় বছর করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে ৩ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কাজের গুণগত মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।

প্রকল্প দুটির নির্মাণ কাজের দায়িত্বে রয়েছে জামালপুর সরদারপাড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ’। ২০২৩ সালের ২৮ মে কার্যাদেশ পাওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজের গতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের তদারককারী মোকাব্বর হোসেন কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, “প্রতিষ্ঠানের কিছু অভ্যন্তরীণ ত্রুটি এবং সময়মতো বিল উত্তোলন করতে না পারায় কাজে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো কাটিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।” অন্যদিকে, সড়ক নির্মাণ কাজের প্রতিনিধি আলী আজগরও বিল প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়াকেই কাজ পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হক জানান, কাইয়াগঞ্জ সেতুর কাজ বিভিন্ন কারণে কিছুদিন বন্ধ ছিল, তবে বর্তমানে তা পুনরায় শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উন্নয়ন প্রকল্পের এই অচলাবস্থা নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, প্রকল্প দুটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে যাতে জনদুর্ভোগ লাঘব হয়।

দুইটি বড় প্রকল্পের কাজ ঝুলে থাকায় এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জার্মানির নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: পানির স্তর নেমেছে রেকর্ড তলানিতে

গোবিন্দগঞ্জে থমকে আছে কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প: নির্ধারিত সময় পেরিয়েও কাজ শেষ মাত্র ৪০ শতাংশ, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৬:১৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর ওপর সেতু ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। প্রকল্পের কাজ অর্ধেকেরও কম সম্পন্ন করে ফেলে রাখায় স্থানীয়দের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহর থেকে করতোয়া নদী পৃথক করেছে দরবস্ত, কাটাবাড়ী ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নকে। এই তিন ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ৩৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শুরু হয় করতোয়া সেতু। দেড় বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও দুই বছর পার হওয়ার পর কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ।

একই অবস্থা উপজেলার কামদিয়া-ফাঁসিতলা জিসি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পেরও। ২১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের কাজ এক বছরে শেষ করার কথা ছিল। পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়িয়ে দেড় বছর করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে ৩ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কাজের গুণগত মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।

প্রকল্প দুটির নির্মাণ কাজের দায়িত্বে রয়েছে জামালপুর সরদারপাড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ’। ২০২৩ সালের ২৮ মে কার্যাদেশ পাওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজের গতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের তদারককারী মোকাব্বর হোসেন কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, “প্রতিষ্ঠানের কিছু অভ্যন্তরীণ ত্রুটি এবং সময়মতো বিল উত্তোলন করতে না পারায় কাজে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো কাটিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।” অন্যদিকে, সড়ক নির্মাণ কাজের প্রতিনিধি আলী আজগরও বিল প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়াকেই কাজ পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হক জানান, কাইয়াগঞ্জ সেতুর কাজ বিভিন্ন কারণে কিছুদিন বন্ধ ছিল, তবে বর্তমানে তা পুনরায় শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উন্নয়ন প্রকল্পের এই অচলাবস্থা নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, প্রকল্প দুটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে যাতে জনদুর্ভোগ লাঘব হয়।

দুইটি বড় প্রকল্পের কাজ ঝুলে থাকায় এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।