ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরানি ড্রোন হামলায় কাতারের গ্যাস উৎপাদন স্থগিত, ইউরোপে লাফিয়ে বাড়লো দাম ৩০ শতাংশের বেশি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাতারের প্রধান জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার জেরে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই আকস্মিক ঘটনার পরপরই ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের রাস লাফান ও মেসাইইদ শিল্পনগরীর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো ইরানি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথিত হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিনে কাতার ছাড়াও কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাস লাফান ও মেসাইইদের জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট দুটি স্থাপনায় ড্রোন আঘাত হেনেছে। তবে, এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর পরপরই কাতারএনার্জি কর্তৃপক্ষ এলএনজি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কবে নাগাদ উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাস সরবরাহকারীর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলো, যারা রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে কাতারের এলএনজির দিকে ঝুঁকছিল, তারা নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ভুগছে। বিশ্ববাজারে গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতকে ‘ফেভারিট’ মানছেন না আমির

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরানি ড্রোন হামলায় কাতারের গ্যাস উৎপাদন স্থগিত, ইউরোপে লাফিয়ে বাড়লো দাম ৩০ শতাংশের বেশি

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাতারের প্রধান জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার জেরে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই আকস্মিক ঘটনার পরপরই ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের রাস লাফান ও মেসাইইদ শিল্পনগরীর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো ইরানি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথিত হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিনে কাতার ছাড়াও কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাস লাফান ও মেসাইইদের জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট দুটি স্থাপনায় ড্রোন আঘাত হেনেছে। তবে, এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর পরপরই কাতারএনার্জি কর্তৃপক্ষ এলএনজি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কবে নাগাদ উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাস সরবরাহকারীর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলো, যারা রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে কাতারের এলএনজির দিকে ঝুঁকছিল, তারা নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ভুগছে। বিশ্ববাজারে গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।