ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ধ্বংসস্তূপ পুনর্গঠনে মার্কিন আধিপত্য চান ট্রাম্প, চলছে জোর তৎপরতা

ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবকাঠামো পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কাজ পাইয়ে দিতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে মার্কিন প্রকৌশল, উৎপাদন ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়োগ দিতে ওয়াশিংটন ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে এই অর্থনৈতিক কূটনীতি পরিচালনা করা হচ্ছে। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বাজার হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সৌদি আরব ও ওমান এই হামলায় তুলনামূলক কম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো আরব কর্মকর্তা মনে করছেন, অঞ্চলটি এখনো নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি, এমন পরিস্থিতিতে পুনর্গঠন চুক্তির জন্য চাপ দেওয়া কিছুটা বেখাপ্পা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাতের অবকাঠামো মেরামতেই প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, এই সংঘাতে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চরম উত্তেজনা ও অচলাবস্থা বিরাজ করছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটি এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোণায় জামায়াত এমপির গাড়িতে হামলা: বিএনপি নেতাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৯ জন আটক

মধ্যপ্রাচ্যের ধ্বংসস্তূপ পুনর্গঠনে মার্কিন আধিপত্য চান ট্রাম্প, চলছে জোর তৎপরতা

আপডেট সময় : ০২:০০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবকাঠামো পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কাজ পাইয়ে দিতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে মার্কিন প্রকৌশল, উৎপাদন ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়োগ দিতে ওয়াশিংটন ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে এই অর্থনৈতিক কূটনীতি পরিচালনা করা হচ্ছে। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বাজার হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সৌদি আরব ও ওমান এই হামলায় তুলনামূলক কম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো আরব কর্মকর্তা মনে করছেন, অঞ্চলটি এখনো নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি, এমন পরিস্থিতিতে পুনর্গঠন চুক্তির জন্য চাপ দেওয়া কিছুটা বেখাপ্পা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাতের অবকাঠামো মেরামতেই প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, এই সংঘাতে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চরম উত্তেজনা ও অচলাবস্থা বিরাজ করছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটি এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।