ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার কোনো বিকল্প নেই, এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। একই সঙ্গে তিনি দেশ ও জনগণের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন সংলগ্ন বটতলা প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিভিন্ন সংকটময় সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকার জন্য উপাচার্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জাতির গৌরবময় অভিযাত্রায় অবদান রাখা সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের কাছে জাতির ঋণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। জাতীয় পতাকাকে শুধু একটি কাপড় নয়, বরং জাতির পরিচয়, ঐক্য ও জাগরণের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ইতিহাসের এই মাইলফলকগুলোই একটি জাতির পরিচয় নির্ধারণ করে এবং আমাদের ঐক্য, চেতনা ও দায়িত্ববোধকে শাণিত করে। জাতীয় পতাকা আমাদের ঐক্যবদ্ধ রাখবে—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সমন্বয়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনাপর্বকে নির্দেশ করে। তিনি সবুজ রংকে সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ ও তারুণ্যের প্রতীক এবং লাল বর্ণকে শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। জাতীয় পতাকা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগায় এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন এবং ২ মার্চ কলাভবন প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমেই স্বাধীনতার আন্দোলন সুসংগঠিত রূপ লাভ করে। তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় পতাকা কেবল সার্বভৌমত্বের প্রতীক নয়; এটি তারুণ্যের দেশপ্রেম, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও বহন করে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, পতাকা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকার বিষয় নয়; বরং যে লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল—সার্বভৌম, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা—তা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান লাল-সবুজের জাতীয় পতাকাকে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও স্বাধীনতার রক্তাক্ত ইতিহাস হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় সংগ্রামে এটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত, দেশের গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
রিপোর্টারের নাম 






















