বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ ১১ জন আইনজীবী এজলাস ভাঙচুর, সরকারি নথি ও মালামাল বিনষ্ট এবং বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে একই মামলায় এক আইনজীবীর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক মিরাজুল ইসলাম রাসেল তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে এই ১২ আইনজীবী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজির হন। বিচারক মিরাজুল ইসলাম রাসেল শুনানি শেষে সাদিকুর রহমান লিংকনসহ ১১ জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করলেও আইনজীবী মিজানুর রহমান রাজুর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই মামলাটি কোতোয়ালি মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা হয়েছিল।
ঘটনার পটভূমি থেকে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুছ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। তার বিরুদ্ধে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগে মামলা ছিল।
তালুকদার মো. ইউনুছের জামিনকে কেন্দ্র করে ২৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। একপর্যায়ে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারাফাতউল্লাহর এজলাসে প্রবেশ করে ব্যাপক হট্টগোল করেন। এসময় এজলাস ভাঙচুর, সরকারি নথি ও মালামাল বিনষ্ট এবং বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ নামধারী ১২ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই দিনই দুপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বরিশাল আইনজীবী সমিতির এনেক্স ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















