ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ফ্লাইট বিপর্যয়: শাহজালালে তিনদিনে ১০২টি বাতিল, দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার (২ মার্চ) ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৩৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে গত তিনদিনে মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হলো, যা হাজার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী, বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে ফেলেছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত বিমান। সোমবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৫টি, গালফ এয়ারের ২টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি এবং ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার ফলেই এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার বিমান যোগাযোগে।

বর্তমানে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ ও দুবাই ছাড়া অন্যান্য রুটে ফ্লাইট চলাচল সীমিত আকারে শুরু হলেও, পরিস্থিতি কবে নাগাদ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে, তা এখনো অস্পষ্ট। বিমানবন্দরে অপেক্ষারত যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা গেছে। অনেক প্রবাসী শ্রমিক ও ব্যবসায়ী গুরুত্বপূর্ণ কাজে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। সাধারণত ঢাকা থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতি সপ্তাহে ২০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাত্রীরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কবে নাগাদ বিমান চলাচল পুরোদমে শুরু হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাসহ ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ফ্লাইট বিপর্যয়: শাহজালালে তিনদিনে ১০২টি বাতিল, দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী

আপডেট সময় : ০৭:১২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার (২ মার্চ) ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৩৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে গত তিনদিনে মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হলো, যা হাজার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী, বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে ফেলেছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত বিমান। সোমবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৫টি, গালফ এয়ারের ২টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি এবং ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার ফলেই এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার বিমান যোগাযোগে।

বর্তমানে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ ও দুবাই ছাড়া অন্যান্য রুটে ফ্লাইট চলাচল সীমিত আকারে শুরু হলেও, পরিস্থিতি কবে নাগাদ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে, তা এখনো অস্পষ্ট। বিমানবন্দরে অপেক্ষারত যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা গেছে। অনেক প্রবাসী শ্রমিক ও ব্যবসায়ী গুরুত্বপূর্ণ কাজে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। সাধারণত ঢাকা থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতি সপ্তাহে ২০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাত্রীরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কবে নাগাদ বিমান চলাচল পুরোদমে শুরু হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।