মাদারীপুরে পুকুরের মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবকের মাথা গুরুতর জখম হয়েছে। আহত রবিন বেপারী (২৮) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার দুই দিন পর হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত যুবলীগ নেতাসহ কোনো আসামিকেই এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন আহতের স্বজনরা।
মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালী গ্রামের বাসিন্দা সোলেমান বেপারীর ছেলে রবিন বেপারী (২৮) গত বৃহস্পতিবার রাতে হামলার শিকার হন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকালে রবিনের চাচা বাবুল বেপারীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই আমির হোসেন বেপারীর পুকুরের মাটি ফেলা নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। আমির হোসেন বেপারীর ছেলে সৌরভ বেপারী পুকুর খননের মাটি বাবুল বেপারীর পুকুরে ফেলছিলেন, যা নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত।
এই বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রতিবেশী শাহাদাত মাতুব্বর, যিনি কালিকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি, আমির হোসেন বেপারীর পক্ষ নেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে শাহাদাত মাতুব্বরের নেতৃত্বে একদল লোক বাবুল বেপারী, তার ছেলে সৌরভ বেপারী, আহত রবিন বেপারী ও তার বাবা সোলেমান বেপারীর ওপর হামলা চালায়। এসময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের কোপে রবিন বেপারীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত রবিনের চাচা বাবুল বেপারী বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলার প্রায় সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে মোবাইল ফোনে আহত রবিন বেপারী বলেন, “শাহাদাত মাতুব্বর লোকজন নিয়ে আমার মাথায় কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমি ঠিকমতো কথা বলতে পারছি না। আমার চাচা মামলা করেছেন, কিন্তু মূল হোতা শাহাদাত বেপারী এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। অন্য আসামিরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কামাল আজাদ এ বিষয়ে বলেন, “পুকুরের মাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
অভিযুক্ত শাহাদাত মাতুব্বর ও আমির বেপারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত মাতুব্বরের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 



















